
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইল সখীপুর উপজেলার বড়চওনা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩ দিনব্যাপী বার্ষিক ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বড়চওনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মরহুম আব্দুর রহমান মাস্টার এর স্ত্রী “নূরজাহান বেগমকে “রত্নাগর্ভা” মা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তাঁর বড় ছেলে স্বাস্ব্য অধিদপ্তরের সাবেক উপ-পরিচালক ডাঃ শামসুল হক প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, এই ধরনের অনুষ্ঠান বড়চওনা গ্রামে এই প্রথম। ভালো কাজে উৎসাহ দিলে বা সম্মান দেওয়া হলে সেই কাজের আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। আর তাই আজকের এই আয়োজন থেকে শিক্ষার্থীরা নতুন কিছু শিখবে এবং আগামীর পথে এগিয়ে যাবে বলে বিশ্বাস করি। যারা এই আয়োজন করেছেন তাদের প্রতি আমি ও আমার পরিবার চিরকৃতজ্ঞ। প্রতি বছর যাতে এই ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় সেই আহ্বান জানাচ্ছি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নূরজাহান বেগমের মেয়ের জামাতা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার শ্বশুর প্রয়াত আব্দুর রহমান মাস্টার আপনাদের এই অঞ্চলে শিক্ষার আলোক বর্তিকা জ¦ালানোর জন্য তিনি সারাজীবন কাজ করে গেছেন। নিজের সন্তানদেরকে লেখাপড়া করিয়েছেন এবং উনার ছাত্র-ছাত্রীদেরকে তিনি বিনামূল্যে টিউশনি করিয়েছেন। যা এই যুগে বিরল দৃষ্টান্ত।
নূরজাহান বেগম ৯ সন্তানের জননী। তারা হলেন- ডাঃ শামসুল হক-স্বাস্ব্য অধিদপ্তরের সাবেক উপ-পরিচালক, খালেদা আকতার- সফল গৃহিনী, জায়েদা আকতার- সফল গৃহিনী, হামিদা আকতার- বিসিএস স্বাস্থ্য, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের গাইনী বিভাগের (অবসরপ্রাপ্ত) সহযোগী অধ্যাপক, ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল হক- বিসিএস, কর্মস্থল বাংলাদেশ টেলিকম (বিটিটিবি), মোজহারুল হক, সফল ব্যবসায়ী, শাহজাদা আকতার, সফল গৃহিনী, আজহারুল হক, সফল ব্যবসায়ী, মৃত: মাকছুদুল হক- সফল ব্যবসায়ী ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, নূরজাহান বেগমের মেয়ে বিসিএস স্বাস্থ্য, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের গাইনী বিভাগের (অবসরপ্রাপ্ত) সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ হামিদা আক্তার নূরজাহান। সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম সরকার লাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা খান মুহাম্মদ সেলিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোযহারুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিকুর রহমান গফুর, বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার ইঞ্জিনিয়ার শাহাজালাল চৌধুরী বেলাল, সাবেক শিক্ষক আতিকুল হক সমীর প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ লাল মিয়া সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
“রত্নাগর্ভা মা’ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পরিকল্পনাকারী বড়চওনা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মির্জা আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রিয় ছাত্র-ছাত্রী তথা আগামীর প্রজন্মকে আরও প্রগতিশীল ও উদ্দমী করতে মূলত এমন মহৎ পরিকল্পনা করি যাতে গুণীজনের কদর দেখে গুণীর জন্ম হয়। ছাত্র-ছাত্রীরা মন দিয়ে লেখাপড়া করে এবং সামনের দিকে এগিয়ে যায় সেই প্রত্যাশায় আমরা বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিবছরই চেষ্টা করে যাচ্ছি লেখাপড়ার পাশাপাশি ভিন্ন কিছু আয়োজন করার।
পরে নূরজাহান বেগম “রত্নাগর্ভা মা” স্মরণ করে রিভার জন্য বিদ্যালয়ে “নূরজাহান বেগম” নামে স্কুল অডিটোরিয়াম নামকরণ করা হয়। আর এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করায় এলাকার সুধী মহল প্রশংসা করছেন বড় চওনা উচ্চ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকদের প্রতি। এই আয়োজন অব্যাহত থাকুক এটাই প্রত্যাশা সকলের।






