
স্টাফ রিপোর্টার ॥
একজন মানবিক মানুষ ডাক্তার আবদুল্লাহিল কাফি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হিসাবে যিনি চূড়ান্ত বাছাই পর্বে উত্তীর্ণ হয়ে এলাকায় নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ আসনের গ্রামগঞ্জে উঠান বৈঠক ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন ডা. কাফি।
দেশ সেরা বিশিষ্ট গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ) ও টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার ভাইঘাট এলাকার কৃতি সন্তান ডা: আব্দুল্লাহিল কাফি। যার ডাক নাম বহুলুল। এলাকায় গরিবের ডাক্তার খ্যাত আবদুল্লাহিল কাফি জনপ্রিয়তা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও মাঠ পর্যায়ে আস্থার প্রতীক হিসেবে এরই মধ্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও ভোটাররা। এই আসনের কৃতি সন্তান ডা. কাফি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর গ্যাস্ট্রোন্টারলজিতে এফসিপিএস এবং মেডিসিনে এমসিপিএস সম্পন্ন করেন।
এ আসনে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় ছিলেন মধুপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোন্তাজ আলী। তার আইনি জটিলতার কারণে কেন্দ্রীয় জামায়াতে ইসলামী অধ্যাপক ডাক্তার আব্দুল্লাহেল কাফীকে মনোনয়ন দেন। মোন্তাজ আলীর স্থলে অপর সফল রাজনীতিবিদ এবং খোদাভীরুতা সম্পন্ন ডায়নামিক ও এলাকার কৃতি সন্তান ডা. আব্দুল্লাহিল কাফিকে দল মনোনয়ন দিয়েছে। তাকে মনোনয়ন দেওয়ায় তার নিজ এলাকার জনগণ জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং তারা আনন্দে উৎফুল্ল হয়েছেন।
জানা যায়, ডা. আব্দুল্লাহিল কাফি ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর ধনবাড়ী উপজেলার ভাইঘাট সমুতকুড় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা- হাসমত আলী সরকার, দাদা মিসির আলী সরকার, মাতা- শামসুন্নাহার। তিনি ২০০৬ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার স্ত্রীও একজন বিসিএস কর্মকর্তা। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। ছেলে উচ্চ মাধ্যমিকে এবং মেয়ে ক্যাডেট কলেজে অধ্যয়নরত। ডা. আব্দুল্লাহিল কাফির পিতা- হাসমত আলী সরকার (খোকা মাতাব্বর) কয়েক উপজেলার মধ্যে সেরা বিচারক বা সালিশদার হিসেবে খ্যাতি রয়েছে। তার ন্যায়বিচারের কথা মানুষের মুখে এখনও আছে। পিতা-মাতার একমাত্র ছেলে আব্দুল্লাহিল কাফি হাজরাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী উত্তীর্ণ হন। ভাইঘাট বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে স্কুলের সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে এসএসসি এবং টাঙ্গাইল কাগমারি এমএম আলী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। তিনি ভাইঘাট স্কুলের পড়ালেখাকালীন সময়েই বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের দাওয়াত পেয়ে ১৯৮৭ সালে ‘কর্মী”, ১৯৮৯ সালে “সাথী’ এবং ১৯৯৫ সালে ‘সদস্য’ হিসেবে নির্বাচিত হন।
বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং খোদাভীরুতায় তিনি অনন্য। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে শিবির সভাপতি এবং ২০০০ সালে চমেকসুর ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি ফুল প্যানেল নিয়ে পাশ করবেন এটা নিশ্চিত হওয়ার পর, তৎকালীন সরকার নির্বাচনের আগের রাতে তাকে গ্রেফতার করে নির্বাচন বন্ধ করে দেয়। পাঁচদিন গুম করে রেখে পরবর্তীতে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। দীর্ঘ ছয় মাস কারাগারে বন্দি থাকার পর মুক্তি পেয়ে তিনি আবার মেডিকেল কলেজে ফিরে আসেন। ২৪তম বিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে সরকারী চাকরিতে যোগদান করেন। ২০০৫ সালে বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠা-এমসিপিএস মেডিসিন এফসিপি এস গ্যাস্ট্রএন্টারোলজি। ২০১৩ সালে অন্যান্য অভিজ্ঞতার জন্য কোরিয়া, জাপান, হংকং, ইউরোপ, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ইন্ডিয়া, সিঙ্গাপুর থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে গ্যাস্ট্ররোলজি বিষয়ে গবেষণা ও উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
তিনি দুনিয়া জুড়ে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। সরকারি চাকরিতে ১০ বছর ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা প্রদান ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। তার হাজারো শিক্ষার্থী বর্তমানে দেশে ও বিদেশে দুনিয়া জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিখ্যাত হয়েছে। অনেকেই মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক, কনসালট্যান্ট ও প্রফেসর রয়েছে। পরবর্তী ২০১৭ সালে সরকারি চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করে কয়েকটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে চাকরি করেন। অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত অবস্থায় তিনি স্বেচ্ছায় অবসর নেন।

স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, প্রায় একযুগ ধরে ভাইঘাটের ‘সমতকুড়” নিজ বাড়িতে প্রতি শুক্রবার বাদ ফজর ফ্রিতে রোগী দেখেন। শুক্রবার সকালে শত শত মানুষের ভিড় হয় তার বাড়ির সামনে। এখানে ধনবাড়ী, মধুপুর, গোপালপুর, সরিষাবাড়ী, জামালপুর ও মুক্তাগাছাসহ বিভিন্ন জায়গার রোগীরা নিয়মিত দেখাতে আসেন। রোগী দেখা ছাড়াও তিনি হতদরিদ্র মানুষের মাঝে দুই হাতে দান খয়রাত করেন। এছাড়া এলাকার স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদরাসা, ঈদগা-গোরস্থান ইত্যাদির প্রতি রয়েছে তার সু-নজর এবং আন্তরিক সহযোগিতা। তার প্রার্থীতার খবর শুনে রোগীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিভিন্নজনের কাছে তাদের কাফি ডাক্তারের জন্য দ্বারেদ্বারে ভোট চাচ্ছেন। অত্র আসনের প্রায় সব গ্রামে তার নিয়মিত রোগী রয়েছে। তিনি জনগণের কাছে মানবিক মানুষ হিসেবে স্বীকৃত।
এ আসনের সাধারণ ভোটাররা বলেন, ডা. আব্দুল্লাহিল কাফি সফল রাজনীতিবিদ এবং খোদাভীরু সম্পন্ন মানুষ। শহর থেকে গ্রাম, বিত্তবান থেকে শ্রমজীবী সব শ্রেণির মানুষই তাঁকে দেখেন একজন নির্ভরতার নাম হিসেবে। জটিল রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি অসংখ্য দরিদ্র ও অসহায় রোগীকে বিনামূল্যে বা স্বল্প ব্যয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়ে তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। কৃষকের ফসলের দুশ্চিন্তা, তরুণের কর্মসংস্থানের সংকট, নারীর নিরাপত্তা ও ন্যায্যতার বিষয়গুলো তিনি খুব নজর দিচ্ছেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, একজন চিকিৎসক হিসেবে যেমন তিনি ধৈর্য নিয়ে রোগীর কথা শোনেন। ঠিক তেমনই একজন রাজনীতিক হিসেবেও মানুষের সুখ-দুঃখের কথা শুনছেন গভীর মনোযোগ দিয়ে। রাজনীতিতে এমন মানবিক পেশাজীবীর অংশগ্রহণ সময়ের দাবি। প্রত্যাশার প্রতীক মানবিক চিকিৎসক হিসেবে যে বিশ্বাস ও ভালোবাসা তিনি অর্জন করেছেন। সেটিই এখন তাঁর রাজনৈতিক শক্তির মূল ভরসা। মানবিক চিকিৎসক, আদর্শিক সংগ্রামী ও ত্যাগী মানুষ হিসেবে ডা. আব্দুল্লাহেল কাফি এ আসনে এক ভিন্ন ধারার রাজনৈতিক প্রত্যাশার নাম।
আসন্ন নির্বাচনে জনগনের উদ্দেশ্যে ডা. আব্দুল্লাহিল কাফি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি সুশিক্ষিত এবং ক্যাডার ভিত্তিক সংগঠন। এখানে নেই কোন হিংসা, বিদ্বেষ ও গ্রুপিং। গণসংযোগে তিনি তুলে ধরছেন ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক সমাজ গঠনের অঙ্গীকার। চিকিৎসা যেমন মানুষের জীবন বাঁচায়, রাজনীতি তেমনি মানুষের জীবনকে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ করার মাধ্যম হওয়া উচিত। সাধারণ জনগণ সহজ-সরল আচরণ, অহংকারহীন উপস্থিতি এবং মানুষের প্রতি আন্তরিকতা সন্তোষ প্রকাশ করছেন। এ আসনে জনগণের মাঝে তৈরি হয়েছে নতুন প্রত্যাশিত একজন প্রতিনিধি। যিনি ক্ষমতার নয়, মানুষের পাশে থাকার রাজনীতিতে বিশ্বাসী।






