
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলে নিত্যপণ্যের বাজারে পেঁয়াজ ও চালের দাম কিছুটা কমলেও বেড়েছে মসুর ডালের দাম। এছাড়া মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) পবিত্র শবে বরাতের কারণে অন্যান্য ডাল জাতীয় পণ্য বিশেষ করে বুট, ছোলা, মুগ ডালের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ বাড়ায় আরও কমেছে সবজির দাম। মাছ-মাংস, মুরগি ও ডিমের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ভোজ্যতেলের সরবরাহ কিছুটা কমলেও চিনির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইল পৌর শহরের পার্ক বাজার, ছয়আনি বাজার, সিটি বাজার, আমিন বাজার ও সন্তোষ বাজার থেকে নিত্যপণ্যের দরদামের এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
বাজারে পেঁয়াজের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। সেই সঙ্গে দাম কমেছে আমদানি করা নাজিরশাইল চালের। অন্যদিকে দাম বেড়েছে ছোট দানার মসুর ডাল, লেবু ও পোলাওয়ের চালের। তবে মিনিকেট চাল আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বাজারে নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে। আর বিদেশ থেকে নাজিরশাইল চাল আমদানি বেড়েছে। ফলে এ ধরনের চালের দামও কমেছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে দাম ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কমেছে ১০ টাকা।
বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে এখন মূলত নতুন পেঁয়াজই বেশি বিক্রি হচ্ছে। সম্প্রতি পাবনার সাঁথিয়া, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন উৎপাদনস্থলে নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে। এতে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দাম কমছে। বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কিছুটা কমেছে। মুদি পণ্যের বিক্রেতারা জানিয়েছেন, কয়েক দিন ধরে সরবরাহকারীদের (ডিলার) কাছ থেকে চাহিদামতো সয়াবিন তেল পাচ্ছেন না খুচরা বিক্রেতারা। তবে দাম বাড়েনি। বাজারে ছোট দানার মসুর ডাল ১৬০-১৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তিন সপ্তাহ আগে কেজিতে ২০ টাকা কম ছিল। অবশ্য মোটা দানার মসুরের দাম কেজিতে ৫ টাকা কমে ৮৫-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে দেশি ও আমদানি করা দুই ধরনের নাজিরশাইল চাল বিক্রি হয়। এর মধ্যে আমদানি করা নাজির শাইল চালের দাম কেজিতে প্রায় ৫ টাকা কমেছে। এ চাল বিক্রি হয়েছে ৭৫-৮০ টাকা দরে। এক সপ্তাহ আগে যার দাম ছিল ৮০-৮৫ টাকা। তবে দেশি নাজিরশাইলের দাম ৮৫ টাকার আশপাশে। বিক্রেতারা জানান, বাজারে দেশি নতুন নাজিরশাইল চাল এলে দাম আরও কমবে। অবশ্য মিনিকেট চালের দাম কমেনি। অর্থাৎ আগের দামেই তা স্থিতিশীল রয়েছে। মিনিকেট চালের মধ্যে প্রতি কেজি রশিদ ৭২-৭৩ টাকা, সাগর ও মঞ্জুর ৮০-৮২ টাকা, ডায়মন্ড ৮৫ টাকা এবং মোজাম্মেল চাল ৮৫-৮৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে ফুলকপি ও বাধাকপি প্রতি পিস ৩০-৪০ টাকা, শিম প্রকারভেদে প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কুমড়া, মুলা, পেপে, শালগম, ব্রুকলিসহ বেশকিছু সবজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকার নিচে। আলুর দাম আরও কমেছে। কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কমে প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। রোজা সামনে রেখে সুগন্ধি চালের দাম বাড়িয়েছেন সরবরাহকারীরা। কেজিতে প্রায় ১৫ টাকা বেড়েছে এ চালের দাম। সুগন্ধি চালের প্যাকেটজাত প্রতি কেজি সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৭৫ টাকা ধরে দিয়েছে সরবরাহকারীরা যা গত সপ্তাহে ছিল ১৬০ টাকার মধ্যে। বিক্রেতারা বলছেন, রোজা ও ঈদে বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সুগন্ধি চালের দাম বাড়িয়েছেন।
গত দুই সপ্তাহ দুয়েক ধরে কিছুটা চড়া দামে স্থিতিশীল হয়ে আছে ব্রয়লার মুরগির দাম। প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকার মধ্যে। যদিও জানুয়ারির শুরুতে তা বিক্রি হয়েছে ১৬৫ থেকে ১৭৫ টাকায়। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বাজারভেদে ১১০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।






