
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে ধোপাখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩০তম বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাঁধা প্রদানের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত আতিকুর রহমান উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি বলে জানা গেছে। অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে মঞ্চে উঠে উপস্থাপকের হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং অনুষ্ঠান বন্ধের হুমকি দেয়। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কোমলমতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিদ্যালয়ের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই আকস্মিক মঞ্চে উঠে পড়েন জামায়াত নেতা আতিকুর রহমান। তিনি শুরুতেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ধমক দিয়ে অনুষ্ঠান বন্ধ করার নির্দেশ দেন। কার অনুমতিতে এই অনুষ্ঠান হচ্ছে- এমন প্রশ্ন তুলে তিনি শিক্ষকদের সাথে চরম অসদাচরণ করেন। একপর্যায়ে তিনি উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান শুরু করেন এবং উপস্থিত সবার কাছে (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মতো একটি আনন্দঘন পরিবেশে এমন আকস্মিক বাধায় শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। অনেক কোমলমতি শিক্ষার্থীকে কান্নাকাটি করতেও দেখা যায়। উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীদের অভিযোগ, আতিকুর রহমান শুধু অনুষ্ঠান বন্ধ করতেই আসেননি, বরং তিনি রাজনৈতিক প্রচারণার জন্য মঞ্চটি ব্যবহার করার চেষ্টা করেন এবং অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় হতবিহ্বল ও গভীরভাবে মর্মাহত হয়ে পড়েন। প্রধান শিক্ষক আলী আকবর জানান, আতিকুর রহমান স্কুলের কোনো অভিভাবক বা পরিচালনা পর্ষদের সদস্য নন। সম্পূর্ণ বহিরাগত হওয়া সত্ত্বেও তিনি যেভাবে মঞ্চে উঠে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছিত করেছেন, তা নজিরবিহীন। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
জামায়াত নেতার এমন কার্যকলাপে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ। তারা দাবী করেন, এলাকায় বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হাজার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ এলাকাবাসী অনুষ্ঠান উপভোগ করছিলেন। তার আচরণে এলাকাবাসী ফুঁসে উঠেছেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় সুশীল সমাজ এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
অভিযুক্ত আতিকের বিরুদ্ধে স্কুলের শিক্ষকরা বলেন, ওই ব্যক্তি প্রায় সময় স্কুলের কোন অনুষ্ঠান হলে বাঁধা প্রদান করে থাকে। অনেক শিক্ষককে নানান প্রকার হুমকিও দিতে থাকে বলেও অভিযোগ করেন।
এমন অভিযোগের বিষয়ে ধোপাখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আতিকুর রহমানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সাথেও অসদাচরণ করেন। সাংবাদিকদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতেও দ্বিধাবোধ করেনি। সাংবাদিকরা যা পারে করুক এসব বাক্যও ব্যবহার করেন তিনি।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিষয়ে টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা. আব্দুল্লাহিল কাফি এবং উপজেলা জামায়াত নেতাদের বিষয়টি মৌখিকভাবে অবহিত করেছেন এলাকাবাসী।
এদিকে এটা নির্বাচনী আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন বলে প্রতিপক্ষের রাজনীতিবিদরা বলেছেন।






