
স্টাফ রিপোর্টার ॥
জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ছুটি পেয়ে উত্তরবঙ্গগামী ঘরমুখি মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও যমুনা সেতু মহাসড়কে। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে এই মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায়। বিশেষ করে গাজীপুর ও ঢাকার শিল্প কারখানাগুলি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওইসব শিল্প কারখানার শ্রমিকরা এবং সকল ধরণের অফিস বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পায়। অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে মুলত সাধারণ জনগন নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে ভোট দেওয়ার জন্য বাড়ি ফিরছেন। এ কারণেই মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই যানজটের সৃষ্টি হয়। এদিকে উত্তরবঙ্গে যাওয়ার পথের সড়কে তীব্র যানজট থাকলেও ঢাকার দিকে সড়কে কোন যানজট নেই।
এ সময় অনেক যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা প্রায় দুই থেকে তিন ঘন্টা ধরে ওইসব এলাকায় সৃষ্ট যানজটে পড়েছেন। সবার মুখে মুখে একটি কথাই বলে বেড়াচ্ছে সব কলকারখানা একসাথে ছুটি হওয়ার কারণে এই মহাসড়কে এমন যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ সময় মহাসড়কে কোন ট্রাফিক পুলিশের দেখা মিলেনি। মাঝেমধ্যে দুই-একজন পুলিশ দেখা গেলেও তারা যানজট নিরসনে পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। যানজটের বিষয়ে তারা কোন কথা বলতেও রাজি হয়নি। যানজটে থাকা বিভিন্ন গাড়ির চালকরা জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল ও যমুনা সেতু মহাসড়কে প্রচুর যানজট থাকায় বিকল্প রাস্তা হিসেবে অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো ব্যবহার করে যানবাহনগুলো চলাচলের চেষ্টা করছেন। বাসের হেলপাররা জানান, সবাই একত্রে ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে নিজ এলাকায় যাওয়ার কারণেই হঠাৎ করে এমন যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) যানজট থাকবে না বলে তারা আসা প্রকাশ করছেন তারা।
এদিকে বাসযাত্রী ফিরোজা আক্তার জানান, ভোর ৫টায় গাজীপুরের বাইপাস এলাকা থেকে বাসে উঠেছেন। এক ঘন্টার যাত্রাপথ আসতে তার সময় লেগেছে ৩ ঘন্টা। তিনি বলেন, বাসের স্বাভাবিক ভাড়া ১০০ টাকা। কিন্ত আজকে এ ভাড়া নিচ্ছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। সুফিয়ান নামে যাত্রী জানান, ৩ ঘন্টা অপেক্ষা করে একটি বাসে উঠতে পেরেছি দ্বিগুন ভাড়া দিয়ে। তাও সিট নেই, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যাচ্ছি। কষ্ট ও বেশী টাকা খরচ করে হলেও ঈদের মতো আনন্দ মনে হচ্ছে।
একাধিক যাত্রীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, পরিবহন শ্রমিকরা ইচ্ছামত ভাড়া আদায় করছে। ১০০ টাকার ভাড়া ৪০০/৫০০ টাকা নিচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় তারা ক্ষুব্ধ। মহাসড়কে ট্রাফিক পুলিশ কোন ভূমিকা নিচ্ছে না। ফলে যানজটের পাশাপাশি রাস্তার অব্যবস্থাপনায় ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে যাত্রীদের। তারা রাস্তার শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে কথা বলতে বেশকয়েকজন শ্রমিকরা জানান, আজকে অনেক যাত্রী হওয়ায় কিছুটা বেশি ভাড়া কাটতে হচ্ছে আমাদের। আগামীকাল আবার গাড়ী ফাঁকা নিয়েই চলতে হবে।






