
স্টাফ রিপোর্টার ॥
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল জেলার ৮টি সংসদীয় আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত ও ইতিবাচক দিক হয়ে উঠেছে প্রযুক্তির ব্যবহার। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জেলার ১ হাজার ৬৩টি ভোটকেন্দ্রে সিসি (ক্লোজ সার্কিট) ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। যা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আস্থা ও স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।
টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের ৮টি সংসদীয় আসনে এবার মোট ভোটার সংখ্যা ৩৩ লাখ ৩৪ হাজার ৪২৭ জন। বিপুল এই ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে জেলাজুড়ে ১ হাজার ৬৩টি ভোটকেন্দ্রের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে মোট ৬ হাজার ৩৪১টি ভোটকক্ষ (বুথ)। এর মধ্যে ১৬০টি ভোটকেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকি ৯০৩টি ভোট কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ভোটের দিন যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ও ভোট জালিয়াতি রোধে পুরো জেলায় স্থাপন করা হয়েছে ২ হাজার ৩৬০টি সিসি ক্যামেরা। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে প্রতিটি ভোটকেন্দ্র ও বুথের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হবে। নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের মতে, কেন্দ্র দখল, ভোট কারচুপি কিংবা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে এই প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে স্থাপিত একটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনো কেন্দ্রে গোলযোগ, অনিয়ম বা পেশিশক্তির ব্যবহার ধরা পড়লে সিসি ক্যামেরার ফুটেজের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
টাঙ্গাইল জেলার ভোটার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৬ লাখ ৭১ হাজার ৬৩০ জন, নারী ভোটার ১৬ লাখ ৬২ হাজার ৭৭২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২৫ জন। এতো বিপুল সংখ্যক ভোটারের নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা ব্যবস্থাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি বুথ ও কেন্দ্রের প্রবেশপথে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
স্থানীয় ভোটাররা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, সিসি ক্যামেরা থাকায় কেন্দ্র দখল ও জাল ভোটের আশঙ্কা অনেকটাই কমে যাবে। অপরদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কর্মকর্তারা বলছেন, প্রযুক্তির এই ব্যবহার নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের রিটার্নিং অফিসার শরীফা হকের দায়িত্ব পালনে সহায়তাকারী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত জানান, সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে প্রতিটি কেন্দ্রের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম বা গোলযোগের আভাস পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ভোট গ্রহণ স্থগিত করার মতো কঠোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে। প্রযুক্তির এই ব্যবস্থাপনা ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।






