
স্টাফ রিপোর্টার ॥
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশ ও কিছু বিচ্ছিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনার মিশ্র অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে টাঙ্গাইলের ৮টি আসনে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলে এই ভোট গ্রহণ। এখন প্রতিটি কেন্দ্রে চলছে প্রাপ্ত ভোট গণনা। জেলাজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন- কে হচ্ছেন ৮টি আসনের এমপি? টাঙ্গাইলের ৮টি আসনের ভাগ্য এখন ব্যালট পেপারে বন্দি। যার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে জেলাবাসী।
শীতের সকালে হাল্কা রোদ উপেক্ষা করে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি কোথাও বেশি ও কোথাও কম লক্ষ্য করা গেছে। দিনভর ভোটে বিশেষ করে নারী ভোটারদের মাঝে অভূতপূর্ব স্বতঃস্ফূর্ততা দেখা গেছে। টাঙ্গাইল সদর থেকে শুরু করে মধুপুর, ধনবাড়ী, সখীপুর, বাসাইল, মির্জাপুর, নাগরপুর সব অঞ্চলেই গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হন সাধারণ মানুষ। অনেক কেন্দ্রেই নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে- যা শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভোটগ্রহণ মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ দাবি করা হলেও কিছু কিছু সিট থেকে উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে। কয়েকটি কেন্দ্রে ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং বুথ দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
এবারের নির্বাচনে টাঙ্গাইলের ৮টি আসনেই নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করছে নারী ভোটার। প্রথমবারের মতো ভোট দিতে আসা এক তরুণী ভোটার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, নিজের পছন্দের প্রতিনিধি বাছাই করতে নির্বাচনে অংশ নিতে পেরে আমি আনন্দিত। আশা করি, যিনি জয়ী হবেন তিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন। বিকাল সাড়ে ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রিজাইডিং অফিসাররা ব্যালট বক্স সিলগালা করে ভোট গণনা শুরু করেছেন। প্রতিটি কেন্দ্র থেকে ফলাফল এখন সরাসরি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হচ্ছে।
এদিন সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত বাড়ার সাথে সাথে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়নগুলোর পাড়া-মহল্লার মোড়ে মোড়ে এবং চায়ের দোকানে বাড়ছে সাধারণ মানুষের জটলা। সবার চোখ এখন ডিজিটাল স্ক্রিন আর রেডিও-টিভির দিকে।
টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলা নিয়ে গঠিত এই ৮টি আসনে মোট ১ হাজার ৬৩টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে । এর মধ্যে ১৬০টি কেন্দ্রকে ঝুঁঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছিল। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। জেলার ৮টি আসনে ২৪ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ৮জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাবসহ পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত ছিল।
টাঙ্গাইল জেলা রিটার্নিং অফিসার শরীফা হক জানান, তারা আশা করছেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করতে পারবেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত সাড়ে ৮টা) পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ভোটের হার সন্তোষজনক।






