
স্টাফ রিপোর্টার ॥
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারী) শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। টাঙ্গাইলের ৮টি আসনে মোট ৪৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কাস্টিং হওয়া মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগের (১২.৫%) কম ভোট পাওয়ায় এসব আসনে ২৭ জন প্রার্থীর ৫০ হাজার টাকার করে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
টাঙ্গাইল সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, কাস্টিং হওয়া মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগের কম ভোট পেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী জামানতের টাকা ফেরত পান না।
টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৪৩৩ জন। ভোট কাস্ট হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ২৫৬টি। জামানত ফেরত পেতে প্রয়োজন ছিল ৩৫ হাজার ৯০৭ ভোট। এর কম ভোট পাওয়ায় চারজন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির প্রার্থী মুহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন (লাঙ্গল) পান ২ হাজার ১৯৪ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আলী (মোটরসাইকেল) পান ৭২৩ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুল ইসলাম (তালা) পান ২৮ হাজার ২৫৯ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হারুন অর রশিদ (হাতপাখা) পান ১ হাজার ৭৩১ ভোট।
টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৮ হাজার ৬০৬ জন। কাস্ট হয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার ২৭০ ভোট। জামানত ফেরতের জন্য প্রয়োজন ছিল প্রায় ৩৩ হাজার ৭৮৩ ভোট। কম ভোট পাওয়ায় দুই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোয়ার হোসেন সাগর (হাতপাখা) পান ৪ হাজার ৭৭৭ ভোট। জাতীয় পার্টির হুমায়ুন কবীর তালুকদার (লাঙ্গল) পান ১ হাজার ৮৫৪ ভোট।
টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮২ হাজার ৭২০ জন। কাস্ট হয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৬৬০ ভোট। জামানত ফেরতের জন্য প্রয়োজন ছিল প্রায় ২৯ হাজার ৫৮২ ভোট। এ আসনে দুই প্রার্থী এ সীমা অতিক্রম করতে পারেননি। তারা হলেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী আইনিন নাহার (হাঁস) পান ১ হাজার ৮৭ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রেজাউল করিম (হাতপাখা) পান ৪ হাজার ৭৫ ভোট।
টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৯১৭ জন। কাস্ট হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৭৭৮ ভোট। জামানত ফেরতের জন্য প্রয়োজন ছিল প্রায় ২৮ হাজার ৫৯৭ ভোট। এই আসনে তিন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আলী আমজাদ হোসেন (হাতপাখা) পান ১ হাজার ৮২২ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হালিম মিয়া (মোটরসাইকেল) পান ৪ হাজার ১৫২ ভোট। জাতীয় পার্টির লিয়াকত আলী (লাঙ্গল) পান ৭৫৮ ভোট।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪১২ জন। কাস্ট হয়েছে ২ লাখ ৯২ হাজার ৪৮১ ভোট। জামানত ফেরতের জন্য প্রয়োজন ছিল প্রায় ৩৬ হাজার ৫৬০ ভোট। এ আসনে সাত প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন- বাংলাদেশ কংগ্রেসের এ কে এম শফিকুল ইসলাম (ডাব) পান ১০৯ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খন্দকার জাকির হোসেন (হাতপাখা) পান ২ হাজার ৬০০ ভোট। গণসংহতি আন্দোলনের ফাতেমা আক্তার বিথী (মাথাল) পান ২২১ ভোট। জাতীয় পার্টির মোজাম্মেল হক (লাঙ্গল) পান ১ হাজার ৬৩৭ ভোট। গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) শফিকুল ইসলাম (ট্রাক) পান ২৬৩ ভোট। বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) হাসরত খান ভাসানী (একতারা) পান ১ হাজার ১৮৯ ভোট। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সৈয়দ খালেকুজ্জামান মোস্তফা (তারা) পান ১ হাজার ৯২ ভোট।
টাঙ্গাইল-৬ (দেলদুয়ার-নাগরপুর) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৬ জন। কাস্ট হয়েছে ২ লাখ ৮৩ হাজার ৪৭১ ভোট। জামানত ফেরতের জন্য প্রয়োজন ছিল প্রায় ৩৫ হাজার ৪৩৩ ভোট। এ আসনে পাঁচ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির (জেপি) তারেক শামস খান হিমু (বাইসাইকেল) পান ৩ হাজার ৪৮৯ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম (মোরগ) পান ২ হাজার ৯৯৬ ভোট। জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ মামুনুর রহিম সুমন (লাঙ্গল) পান ১ হাজার ১৬৬ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আখিনুর মিয়া (হাতপাখা) পান ১২ হাজার ৬৮ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী জুয়েল সরকার (হরিণ) পান ১৫ হাজার ১৬১ ভোট।
টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৪৩৭ জন। কাস্ট হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ২৫২ ভোট। জামানত ফেরতের জন্য প্রয়োজন ছিল প্রায় ২৭ হাজার ২৮১ ভোট। এ আসনে একজন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তিনি হলেন বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) তোফাজ্জল হোসেন (হাতি) পান ১ হাজার ৪৯২ ভোট।
টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৪ হাজার ৮২৭ জন। কাস্ট হয়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার ২৬১ ভোট। জামানত ফেরতের জন্য প্রয়োজন ছিল প্রায় ৩১ হাজার ৫৩২ ভোট। এ আসনে তিন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন- বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আউয়াল মাহমুদ (কোদাল) পান ৫১০ ভোট। আমজনতার দলের আলমগীর হোসেন (প্রজাপতি) পান ৩৩০ ভোট। জাতীয় পার্টির নাজমুল হাসান (লাঙ্গল) পান ৫৬৫ ভোট।





