
স্টাফ রিপোর্টার, মির্জাপুর ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে তালাবদ্ধ একটি ঘর থেকে হাত-পা বাধা অবস্থায় হাফিজা আক্তার নামে ৭ বছরের এক শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হাফিজা উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের বরটিয়া গ্রামের সোহেল মিয়ার মেয়ে। গার্মেন্টকর্মী সোহেল মিয়া পরিবার নিয়ে কদিম দেওহাটা গ্রামের মাজাহারুলের ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। শিশু হাফিজা উপজেলার দেওহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। গত (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে তিনটায় খেলাধূলার জন্য বাড়ির সামনে মাঠে আসার পর নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরী করা হয়। ডায়েরী নম্বর-৪৬১।
পরিবার ও স্থানীয় লোকজন জানান, শিশু কন্যা হাফিজা নিখোঁজের পর পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় লোকজন নিয়ে দেওহাটা পুলিশ ফাঁড়িতে যান। সেখানে কর্তব্যরত উপপরিদর্শক (এসআই) নুরনবীকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো তাদের সাথে খারাপ আচরণ এবং বিভিন্ন বাজে মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করেন। তিনি কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় রাতে থানায় ডায়েরী করা হয়। পর দিন (৮ ফেব্রুয়ারি) ০১৮৭২৮৯৬১৭৪/০১৯৪৩০২৮৪৮১ নম্বর থেকে হাফিজার বাবা ০১৮২০৬১১৪৪১ নম্বরে ফোন করে অপর প্রান্ত থেকে বলেন তাহার কাছে হাফিজা রয়েছে। মেয়েকে ফেরত পাইতে হলে ৬০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। পরবর্তীতে মেয়েকে ফেরতের আসায় ০১৮৭২৮৯৬১৭৪ নম্বরে ৪ হাজার টাকা বিকাশে পাঠান। মুক্তিপণের বাকি ৫৬ হাজার টাকা দাবি করে লাইন কেটে দেন।
এরপর গত (৯ ফেব্রুয়ারি) পুণরায় ফোন করে মুক্তিপনের টাকা দাবি করা হয়। এই বিষয়গুলো নিয়মিত এসআই নুরনবীকে অবহিত করেন পরিবার ও স্থানীয় লোকজন। এসআইয়ের দায়িত্বহীনতা লক্ষ করে স্থানীয় লোকজন নিজেরাই ফাঁদ পাতেন। মুক্তিপণের টাকা দেয়া হবে বলে দুর্বত্তরা গোড়াই ও ক্যাডেট কলেজ গেটসহ বিভিন্ন স্থানের ঠিকানা দেন। সর্বশেষ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উপজেলা সদরের মা সিএনজি স্টেশনের ঠিকানা দেন। মুক্তিপণের টাকা দিতে এসে সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের বাইমাইল গ্রামের জালাল সিকদারের ছেলে সাজিদ সিকদারকে (১৭) আটক করেন। এ সময় সাজিদের পকেট থেকে মেয়েদের চুলের ক্লিপ উদ্ধার করা হয়। পরে ক্লিপসহ সাজিদকে দেওহাটা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নুরনবী ও কবীরুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেন। এ ঘটনায় শিশু হাফিজার বাবা বদর মিয়া গত (১০ ফেব্রুয়ারি) মির্জাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কদিম দেওহাটা এলাকায় বদর মিয়ার ভাড়া বাসার আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয় লোকজন খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। এ সময় ওমর ফারুক নামে এক ব্যক্তির তালাবদ্ধ ঘরের ভেতর থেকে হাত-পা বাধা উলঙ্গ অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান। পরে পরিবারের লোকজন গিয়ে শিশু হাফিজার পরিচয় নিশ্চিত করেন।
খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল শেষে মরদেহ উদ্ধার করেন। এ সময় দেওহাটা ফাঁড়ির এসআই নুরনবী ঘটনাস্থলে গেলে পরিবারের সদস্যদের তোপের মুখে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন এসআই নুরনবীকে নিরাপদে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে সহায়তা করেন।
এদিকে হাফিজার চাচা শিপন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ভাতিজি নিখোঁজের এক সপ্তাহের মধ্যে এসআই নুরনবী ঘটনাস্থলে আসেননি। তাৎক্ষনিকভাবে পুলিশ ব্যবস্থা নিলে আমার ভাতিজি উদ্ধার হতো। পরিবারের পক্ষ থেকে অপরাধীদের সাথে এসআই নুরনবীরও শাস্তি দাবি করেন। স্থানীয় বাসিন্দা মফিজুর রহমান জানান, কমপক্ষে ৪০/৫০ জন মানুুষের উপস্থিতিতে আটককৃত সাজিদের কাছ থেকে পাওয়া চুলের ক্লিপ এসআই কবীরুল ও নুরনবীর কাছে দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে এসআই মোহাম্মদ নুরনবী সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পুলিশের সহযোগিতায় একজন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাছাড়া নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। এ ঘটনায় জড়িত আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আজকে পরিবারের লোকজন আপনার উপর চড়াও হয়েছিলেন কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের অভিযোগ আমি এ ঘটনায় কোন কাজ করছি না।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর রহস্য জানা যাবে। এসআই নুরনবীর বিরুদ্ধে পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের অভিযোগের বিষয়ে বলেন, সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তাছাড়া নুরনবীর বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের বিষয় উর্দ্ধতন কর্মকতাদের অবহিত করা হয়েছে তিনি বলে জানান।






