
স্টাফ রিপোর্টার ॥
গত (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটগ্রহণের দিন এবং এর আগে ও পরে যানবাহন চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ ছিল। যদিও নিত্যপণ্যের মতো প্রয়োজনীয় পণ্য বহনকারী যানবাহন এর আওতার বাইরে ছিল। তারপরও টাঙ্গাইলের বাজারে পণ্যের সরবরাহ কমেছে। যে কারণে ভোটের পর রবিবারও (১৫ ফেব্রুয়ারি) সবজি, মুরগি, পেঁয়াজসহ বেশকিছু পণ্যের দাম চড়া। টাঙ্গাইলের খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সীমিত পরিবহন চলাচল করায় দেড় থেকে দ্বিগুণ বেড়েছে পরিবহন খরচ। যা সরাসরি প্রভাব ফেলেছে কাঁচাপণ্যের দামে।
টাঙ্গাইলের পার্কবাজার, সিটি বাজার, ছয়আনি বাজার, আমিন বাজার ও সন্তোষ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি সবজি ভোটের আগের সময়ের চেয়ে কেজি প্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে, ভোটের কারণে টাঙ্গাইলের বাজারে মানুষের চাপও কমেছে। বাজারে ক্রেতা উপস্থিতিও কম, যে কারণে বেচাবিক্রিও কমেছে। খরচ বেশি পড়ায় অনেক বাজারের দোকানি ও ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারা আজ সবজি নিয়ে আসেননি। অনেক দোকানও বন্ধ দেখা গেছে। পার্ক বাজারের বিক্রেতা এনামুল বলেন, সরবরাহ যেমন কম, ক্রেতাও কম। যে কারণে দাম ১০-২০ টাকা বাড়লেও নাগালের মধ্যে রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের মতো ক্রেতা থাকলে দাম আরও কয়েকগুণ বাড়তো।
ইয়াছিন নামের এক বিক্রেতা বলেন, নির্বাচনের এক দিন আগে থেকেই বাজারে সবজি আমদানি কম হয়েছে। যে কারণে শসা, মটরশুটি, ফুলকপি, বাঁধাকপি কিনতে পারিনি। এগুলো আজ দোকানেই নেই। ব্যবসায়ীরা জানান, বেগুন, ঝিঙা, শসা, ঢ্যাঁড়স, চিচিঙা, বাঁধাকপি, ফুলকপিসহ অন্যান্য সবজি এক থেকে দুদিনের বেশি মজুত করা যায় না। এর বেশি হলে এসব সবজি নষ্ট হতে শুরু করে। ভোটে যানবাহন বন্ধ থাকায় বাজারেই সবজি সরবরাহ কম। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে।
এদিকে, আরও কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এখন প্রতি কেজি শসা ৮০ থেকে ১০০ ও টমেটো ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ দুই সবজির দাম কেজি প্রতি ২০ টাকা বেড়েছে। এছাড়া কাঁচামরিচ ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা ভোটের আগের চেয়ে ৪০ টাকা বেশি। এদিকে, প্রতি কেজি শিম, মুলা, পেঁপে মানভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকা, বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকায় হচ্ছে। এদিকে, হাইব্রিড করলা ও মটরশুটির দাম উঠেছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়।
অন্যদিকে, বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১০ টাকা। প্রতি কেজি ৫০ টাকার পেঁয়াজ এখন ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার মুরগি ২০০ থেকে ২১০ টাকা বিক্রি হতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, সোনালি মুরগির কেজি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা। তবে বাজারে তেল, চিনির মতো মুদিপণ্যের দামে খুব একটা হেরফের হয়নি। ডিমের দাম প্রতি ডজন ১১০-১১৫ টাকার মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে।






