
স্টাফ রিপোর্টার, মির্জাপুর ॥
টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) নির্বাচনী আসনে দীর্ঘ ২৫ বছর পর জয় পেয়েছে বিএনপি। এ আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অর্ধলক্ষ ভোট এ জয়ে প্রভাব ফেলেছে বলে জানা গেছে। একটি পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়ন নিয়ে টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসন গঠিত। এ আসনে ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮২৭ জন ভোটার রয়েছে। এরমধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রায় ৫০ হাজার ভোট রয়েছে। গত (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় না থাকলেও সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের কেন্দ্রে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে দেখা গেছে।
এ আসন থেকে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী প্রতিদ্বন্ধি জামায়াত প্রার্থীকে ৭০ হাজার ২১৩ ভোটে পরাজিত করেন। বিএনপি মনোনিত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী পান ১ লাখ ৪১ হাজার ২৫৩ ভোট পেয়ে এবার বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদন্ধি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবনে আবুল হোসেন পান ৭১ হাজার ৪০ ভোট পান।
দলীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের ব্যারিষ্টার শওকত আলী খান, ১৯৭৯ সালে বিএনপির শাহ্ মোস্তানজিুল হক খান ওরফে খিজির, ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির ওয়াজেদ আলী খান পন্নী, ১৯৯১ সালে বিএনপির খন্দকার বদর উদ্দিন, ১৯৯৬ সালের একতরফা নির্বাচনে (১৫ ফেব্রুয়ারি) ও একই বছরের (১২ জুনের) নির্বাচনে বিএনপির আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বিজয়ী হন। এরপর বিগত ২০০১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত চারটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একাব্বর হোসেন, ২০২২ সালে উপনির্বাচনে ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের খান আহমেদ শুভ বিজয়ী হন। অবশ্য ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী ২০০১ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নিয়ে পরাজিত হন।
এদিকে নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার পর আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর অনুসারী বিএনপির নেতাকর্মীরা উপজেলা সদরের মির্জাপুর বাজার, সাহাপাড়া, আন্ধরা, সরিষাদাইর ও বাইমহাটী এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনের সাথে মতবিনিময় করেন। এ সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন বিএনপির নেতাদের বলেন, আমরা ধানের শীষে ভোট দেয়া শিখেছি। আমাদের সম্প্রদায়ের ভোট ধরে রাখার সকল ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবেন এমন মন্তব্য করেন। উপস্থিত বিএনপির নেতারাও এ বিষয়ে তাদের আশ্বস্ত করেন বলে জানা গেছে।
মির্জাপুরবাসী বিএনপি ও আমাকে কতটুকু ভালবাসেন তা এবারের বিপুল ভোটের বিজয়ের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছেন।
মির্জাপুর উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিকাশ গোস্বামী মধু বলেন, এ উপজেলায় প্রায় ৫০ হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী (হিন্দু) ভোট রয়েছে। এবারের নির্বাচনে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিপুল সংখ্যাক ভোটার ধানের শীষে ভোট দিয়েছেন।
মির্জাপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এম মহসীন বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনের সাথে বিএনপির নেতাকর্মীদের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় এবারের নির্বাচনে তারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপির প্রার্থীকে নির্বাচিত করেছেন।






