সখীপুর প্রতিনিধি ॥
চাহিদামত টাকা না দেয়ায় টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় নানীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে নাতির বিরুদ্ধে। পুলিশ অভিযুক্ত নাতিকে গ্রেফতার করেছে। নিহত বেদেনা কোচ (৬৫) উপজেলার কালিদাস পানাউল্লাহ পাড়া এলাকার বাসিন্দা ও পরেশ চন্দ্র কোচের স্ত্রী। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতের নাতি নয়ন কোচ (১৮) মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে নানীর কাছে পাঁচ হাজার টাকা ধার চান। টাকা না দেওয়ায় তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এরপর রাতে সুযোগ বুঝে নয়ন নানীর বাড়িতে অবস্থান নেন। পরে রাত ৯টার দিকে নিহতের স্বামী বাজারে গেলে বাড়িতে একা ছিলেন বৃদ্ধা বেদেনা কোচ। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে নয়ন প্রথমে হাতুড়ি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত দা ও হাতুড়ি ফেলে রেখে পালিয়ে যান অভিযুক্ত নাতি নয়ন কোচ (১৮)।
পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরেশ চন্দ্র কোচ বাড়ি ফিরে স্ত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা কৌশল ব্যবহার করে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারী) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে নয়ন কোচকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি জেলখানা মোড় এলাকায় কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন এবং একই গ্রামের শ্যামল কোচের ছেলে।
এ ব্যাপারে সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোশাররফ হোসেন চৌধুরী জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নয়ন হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তার দাবি, নানী তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতেন না। এ ঘটনায় বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারী) সকালে পরেশ চন্দ্র কোচ বাদী হয়ে নয়ন কোচকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, খবর পেয়ে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারী) সকালে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলা দায়েরের আগেই আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। যা পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের প্রমাণ।