সিনিয়র রিপোর্টার ॥
জাতীয সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য চারবার দল বদল করলেন। এর আগে একবার ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। এবার সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন (লাঙল) প্রতীক নিয়ে। যে ভোট পেয়েছেন তাতে তাঁর জামানত রক্ষা হয়নি। সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য বারবার দল বদল করা ব্যক্তির নাম ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলী। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় স্যসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী হয়ে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁর প্রতীক ছিল (লাঙ্গল)। তিনি এবার ভোট পেয়েছেন ৭৫৮টি।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে মোট ভোটার সংখ্য ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৯১৭টি। এর মধ্যে ভোট প্রদান করেছেন ২ লাখ ২৮ হাজার ৭৭৮ জন। শতকরা ৬১ দশমিক ০২ ভাগ ভোট পড়েছে। লিয়াকত আলী যে ভোট পেয়েছেন তাতে তিনি জামানত হারিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কালিহাতী উপজেলার দেউপুর গ্রামের সন্তান লিয়াকত আলী। তিনি ঢাকায় ব্যবসা করেন। বিগত ২০০১ সালে জোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। এর বছর দুই পর তিনি কালিহাতীতে যাতায়াত শুরু করেন। শুরুতে কালিহাতী ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (কেডিএফ) নামক একটি সংগঠনের ব্যানারে সামাজিক কর্মকান্ড শুরু করেন। এর সাথে সম্পৃক্ত করেন বিএনপি ঘরানার লোকজন।
বিগত ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। বিগত ২০১৫ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে জেলা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
বিগত ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগে যোগ দেন। ওই দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন। সেবার নির্বাচনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ বিএনপির সাথে জোটবদ্ধ হয়ে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে। ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হয়ে লিয়াকত আলী টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন।
বিগত ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর তিনি কৃষক শ্রমিক জনতা লীগে নিস্ক্রিয় হয়ে যান। পরে যোগ দেন জাতীয় পার্টিতে। বিগত ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি (লাঙ্গল) প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে ৫০০ ভোট পান। সে নির্বাচনের পর তিনি বিদিশা রহমানের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে জেলা শাখার আহবায়ক হন। কিছুদিন পর আবার ফিরে আসেন জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে। এবার সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশ নেন জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) প্রতীক নিয়ে।
নির্বাচনে জামানত হারানোর মতো ভোট পাওয়া ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলী বলেন, লিয়াকত আমি আর নির্বাচন করবো না। এখন অবসর জীবন যাপন করবো। স্ত্রী, সন্তানদের সময় দেবো। চোখের সামনে যে ভোট দেখলাম তাতে মনে হয় সুষ্ঠু হইছে। কিন্তু রেজাল্ট যে রকম হলো তাতে তো মিলে না। এতো ভোট কীভাবে কাস্ট হইলো। পুরোদমে নির্বাচন কইরা ৭৫০টা ভোট পাইলাম। এইডা কোন কথা হইলো।
জেলা রির্টানিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, এ আসনে বিএনপির প্রার্থী লুৎফর রহমান মতিন ১ লাখ ৫ হাজার ৩৪২ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ৬২ হাজার ৫০৯ ভোট, জামায়াতে ইসলামীর খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক ৫০ হাজার ১৯২ ভোট, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল হালিম ৪ হাজার ১৫২ ভোট ও ইসলামী ঐক্য জোটের প্রার্থী আলী আমজাদ হোসেন পেয়েছেন ১ হাজার ৮২২ ভোট।