
নুর আলম, গোপালপুর ॥
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে দীর্ঘ ১৮ মাস বন্ধ থাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে হঠাৎ ব্যানার উত্তোলনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার ঝড় উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে কার্যালয়ের ফটকে দলীয় ব্যানার ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
জানা যায়, গত (৫ আগস্টের) ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর থেকে প্রায় ১৮ মাস ধরে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিল। দলীয় নেতাকর্মীদের বেশিরভাগই তখন থেকে গাঁ ঢাকা দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক এমপি তানভীর হাসান ছোট মনির নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে গোপালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সুরুজ দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ব্যানার উত্তোলন করেন। ৩৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে আরও দেখা যায়, মূল ফ্রেমের ওপর ব্যানার সংস্থাপন করে নেতাকর্মীরা জয় বাংলা ও জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দিচ্ছেন। ভিডিওতে ৮ থেকে ১০ জনকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
ভিডিওতে গোপালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম তালুকদার সুরুজ বক্তব্য রাখছেন। বক্তব্যে তাকে বলতে শোনা যায়, সামনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ফিরবে, আমরাও ফিরবো। এমপি ছোট মনিরের নেতৃত্বে আমরা আহবান জানাই, গোপালপুরের প্রত্যেক আওযামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ, শ্রমিকলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃবৃন্দ যে যেখানে আছেন আসেন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। আজকে থেকেই ঐক্যবদ্ধভাবে সংগঠনকে গুছিয়ে নিয়ে আমরা আগামী দিনে এই গোপালপুরের মাটিতে অবশ্যই আবার সংগঠিতভাবে ফিরে আসবো। এই হোক আজকে আমাদের প্রাণ প্রতিজ্ঞা, জয় বাংলা। ভিডিওতে বেশকয়েকজন নেতাকর্মীর উপস্থিতি দেখা গেছে। তবে তাদের নাম ও দলীয় পদ জানা যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে উপজেলা শহরসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামগঞ্জে আলোচনা চলছে।
তবে সকালে দেখা যায়, উত্তোলিত ব্যানার ও জাতীয় পতাকা আর কার্যালয়ের সামনে নেই। বর্তমানে কার্যালয়টি পুণরায় তালাবদ্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেন, থানার মূল ফটক সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত নিষিদ্ধ ঘোষিত উপজেলা আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসে ব্যানার টানিয়ে প্রকাশ্যে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়া হয়েছে। অথচ পুলিশ এ বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি। পুলিশের নাকের ডগায় কিভাবে নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানার টাঙানো হলো? কার সাহসে স্লোগান দেওয়া হলো? আইন কি সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য, নাকি কারও জন্য ভিন্ন নিয়ম? উপজেলা বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, এমন ঘটনা প্রশাসনের অজান্তে ঘটার সুযোগ নেই। ফলে জনমনে সন্দেহ দানা বেঁধেছে, এখানে কোনো ধরনের নীরব মধ্যস্থতা বা প্রভাব কাজ করছে কি না। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং প্রশাসনকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। অন্যথায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হবে।
এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়ায় গোপালপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম রুবেল বলেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ সংগঠন। তারা রাতের আধারে তাদের কার্যক্রম করবে এটা ঠিক নয়। দিনের বেলায় এসে কার্যক্রম করুক।
এ বিষয়ে গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বলেন, সেহরির আগ মুহূর্তে তারা কয়েকজন লোক পতাকা এবং ব্যানারটা টানিয়ে যায়। এতে কারা কারা জড়িত তাদেরকে চিহ্নিত করে তাদের মামলা দেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।






