
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের বাজারে রোজার নিত্যপণ্যের দাম নড়চড় নেই। বরং আগের চেয়ে রোজার শুরুতেই দাম বেড়েছে। এতে করে সাধারণ ক্রেতারা চরম বিপাকে পড়েছেন। শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইল শহরের পার্ক বাজার, ছয়আনি বাজার, সিটি বাজার, আমিন বাজার ও সন্তোষ বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। গেল সপ্তাহে বাজারে গোল বেগুন বিক্রি হয়েছে মানভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। অথচ, এখন বাজারে গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। আর, গেল সপ্তাহে ৬০ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া লম্বা বেগুন বাজারে বিক্রি হচ্ছিল ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। কাঁচাবাজারে বেগুন কিনছিলেন মুরাদ হোসেন নামের একজন। তিনি বলেন, রোজায় বেগুনি বানাতে বেগুনের প্রয়োজন হয়। এজন্য সারা বছর অনেকে না কিনলেও রোজায় বেগুন কেনে। তাই দাম বাড়তি। মোট কথা চাহিদা বাড়লেই বাজারে দাম বাড়বেই যেকোনো অজুহাতে। বাজারে দাম বেড়েছে কাঁচা পেঁপের। অনেকে পেঁপে দিয়েও বেগুনি বানিয়ে থাকেন। তুলনামূলক সস্তা এই সবজি সারা বছর ৩০ থেকে সর্বোচ্চ ৪০ টাকার ঘরে থাকলেও কাঁচা পেঁপের দাম এখন কেজি প্রতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা।
শসা কিনতে হচ্ছে মানভেদে কেজি প্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। গেল সপ্তাহেও যা ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। এছাড়া, টমেটো ও গাজরের দামও কেজিতে ১০ টাকা করে বেড়েছে। পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচের মতো নিত্যপণ্যের দামও বেড়েছে। পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং কাঁচা মরিচের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তবে, রোজার পণ্য ছোলা আগের দামেই মানভেদে ৮০ থেকে ৯৫, অ্যাংকর ডাল ৫০ থেকে ৭৫ টাকা, মুগডাল ১২০ টাকা কেজিতেই স্থিতিশীল রয়েছে। কাঁচাবাজারের বিক্রেতা আল-আমিন বলেন, ছোলা আজ বিক্রি করছি ৯০ টাকায়। এ বছর এখনো এখন পর্যন্ত ছোলা, অ্যাংকর ডাল, বেসন এসব জিনিসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
ফলের দামও চড়া- রোজায় ইফতারে ফলে খেতে চান অনেকে। ফলে, রোজায় বছরের অন্য সময়ের তুলনায় ফলের দাম থাকে বাড়তি। রোজা শুরুর আগেই এবার দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের ফলের দাম বেড়েছে। বিদেশি ফলের মধ্যে রোজায় সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে খেজুর, মাল্টা ও আপেলের। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে মাল্টা ও আপেলের।
এক কেজি মাল্টা ১০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে মানভেদে ৩১০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর, আপেলের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে সবুজ আপেল ৩৫০ টাকা, গালা আপেল ৩৮০ থেকে ৩৯০ টাকা, ফুজি আপেল ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিদেশি কোনো ফলই বাজারে ৩০০ টাকার কমে মিলছে না। দুই সপ্তাহ আগেও মাল্টা ও আপেলের দাম কেজিতে গড়ে ৫০ থেকে ৮০ টাকা কম ছিল। এছাড়া লাল আঙুর কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা, কালো আঙুর কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। বাজারে দেশীয় ফলের মধ্যে ধরনভেদে কলার দাম ডজনে ৩০ থেকে ৬০ টাকা বেড়েছে। এছাড়া পেঁপে, পেয়ারা, বরই প্রভৃতি ফল আগের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।





