
স্টাফ রিপোর্টার ॥
প্রথম রমজান থেকেই টাঙ্গাইল জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন শহরগুলোর ভিন্ন এক রূপ দেখা যায়। রোজায় দুপুর গড়াতেই হোটেল থেকে শুরু করে অলিগলি ও প্রধান সড়কগুলোতে ইফতারির বাজার বসে। খেজুর, বেগুনি, পেঁয়াজু, আলুর চপ, হালিম, জিলাপি, ছোলাসহ নানা মুখরোচক খাবারে এসব জায়গায় শোভা পেতে থাকে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় ইফতারি বিক্রির চিত্র। এ বছর নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব ইফতারির বাজারেও পড়েছে। তবে ক্রেতাদের আগ্রহে কোনো ঘাটতি নেই। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ছোলা, পেঁয়াজ ও তেলের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। তবে ক্রেতা ধরে রাখতে অনেকেই ক্রয় সীমার মধ্যে বিক্রি করছেন।
পবিত্র রমজান উপলক্ষে টাঙ্গাইলে মুখরোচক খাবারে ইফতার বাজার জমে উঠেছে। ভ্রাম্যমাণ দোকানে ভরে উঠেছে শহরের বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাত। দুপুর থেকে মুসলমানরা ভিড় জমান পাড়া-মহল্লার ইফতারির দোকানগুলোতে। এসব দোকানে ইফতারের সময় পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। একই সাথে অভিজাত হোটেল-রেস্তোরাঁর ইফতারে উন্নতমানের আয়োজন করা হয়। সামর্থবানরা ছুটেন সেখানে। দম ফেলার যেন ফুরসত নেই কারিগরদের। ক্রেতারা বলেন, ঘরে আয়োজন থাকলেও বাইরের খাবারের আকর্ষণ আলাদা। যার কারণে দুপুরের পর থেকেই ইফতারীর দোকানগুলোতে ভিড় বাড়তে থাকে।
অফিস শেষে কর্মজীবীরা দ্রুত ইফতারি কিনে বাসায় ফেরেন। অনেক রেস্টুরেন্ট বিশেষ ইফতারি প্যাকেজ চালু করে। ইফতারির নানা পদের মধ্যে জিলাপি, কাবাব, গ্রিল চিকেন, বুন্দিয়া, গরুর কালো ভুনা, কাচ্চি, মগজ ভুনা, চিংড়ি বল, ফিশ বল, চিকেন সাসলিকসহ আরও অনেক কিছু। সাথে পেস্তা বাদামের শরবত, বেলের শরবত, তরমুজের শরবতসহ অসংখ্য পানীয়র আয়োজন। শহরে প্রায় নিয়মিত হোটেল-রেস্তোরাঁর পাশাপাশি বসছে অসংখ্য ভ্রাম্যমাণ দোকান। এসব দোকানে ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজু, আলুর চপ, বেগুনি, ডিম চপ, দই বড়া, মিষ্টি, শাহি হালিম, গরু-মুরগি-খাসির হালিম, কাবাব, সবজি পাকোড়া, মাংসের চপের পাশাপাশি অনেকে তাদের নিজস্ব বিশেষ আয়োজন নিয়ে বসেন। এসব দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়।
সরেজমিন আরও দেখা গেছে, রমজানের সাধারণ ইফতার সামগ্রী অর্থাৎ পেঁয়াজু, বেগুনি, ছোলা-মুড়ি, চপ, শরবত, জিলাপি ছাড়াও হরেক রকমের বাহারি খাবারের পসরা সাজিয়েছেন দোকানিরা। হালিম, চিকেন ফ্রাই, চিকেন চাপ, চিকেন তেহারিসহ নানান ধরনের মুখরোচক পদ তো রয়েছেই। জেলা শহরের বড় হোটেল রেস্তোরাগুলোতে ৫৯৫ টাকা ও ৯৯৫ টাকায় ইফতারীর প্যাকেজ রয়েছে। এছাড়া প্রায় অর্ধশত ইফতার আইটেম রয়েছে।






