
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা সদর ও পৗর শহরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বারুখালি খালটি দখল ও দূষণে এখন অস্তিত্ব হারানোর উপক্রম হয়ে পড়েছে। বংশাই ও লৌহজং নদীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী খালটি দিনকে দিন দখল ও দূষণে ক্রমেই সরু হয়ে ড্রেনের রূপ নিচ্ছে। মির্জাপুর পৌরসভার মূল শহর মির্জাপুর বাজারের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র জলাধার বারুখালি খালটি অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে রক্ষা না করলে বর্ষা বা বৃষ্টির পানিতে শহরটিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে জনদুর্ভোগ বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে খালটিতে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ও বাসাবাড়ির বর্জ্য ফেলায় দূষণে জনস্বাস্থ্য হুমকির মধ্যে পড়বে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলা পরিষদের পশ্চিম এবং মির্জাপুর থানার পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বংশাই ও লৌহজং নদীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী বারু খালটির দৈর্ঘ্য প্রায় দুই কিলোমিটার এবং প্রস্থ গড়ে ১২৬ ফুট। দুইটি নদীর সংযোগ স্থাপনকারী খালটি এক সময় ছিল খরস্রোতা এবং প্রায় সারাবছর নৌকা চলত। উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ নৌকাযোগে এই খাল দিয়ে মির্জাপুর হাটে আসত কৃষিপণ্য বেচাকেনা করতে। এছাড়া বর্ষায় খালটি দিয়ে এক সময় দূরদূরান্ত থেকে নৌকাযোগে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে কুমুদিনী হাসপাতালে আসতেন। আশির দশকের গোড়ার দিকে বর্ষায় খালটির বাওয়ার রোড এবং থানা সংলগ্ন ঘাটে নারিকেল ভর্তি বড় বড় জং নৌকা নোঙর করে থাকত।
এরপর থেকে খালটির দুই পাড় ঘেঁষে ধীরে ধীরে অবৈধভাবে দখল শুরু হতে থাকে। দখলকৃত খালের পাড়ের জমিতে এখন পাকা ভবনসহ নানা স্থাপনা গড়ে উঠেছে। খালটির দুই পাড় অব্যাহত দখলের ফলে বর্তমান প্রশস্থ ক্রমেই ড্রেনের রূপ নিচ্ছে। একদিকে খালের পাড় দখল হয়ে গড়ে উঠেছে নানা স্থাপনা। অন্যদিকে হরদম যত্রতত্র বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা ফেলায় খালটির গতিপথ প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, ময়লা-আবর্জনা পঁচে মারাত্মক দূষণ করছে পরিবেশের।
এদিকে মির্জাপুর বাজারসহ পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ডের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র জলাধার হচ্ছে এই বারুখাল। কিন্তু বেদখলের ফলে খালটির পানি নিষ্কাশনের পথ দিন দিন ক্ষীণ হয়ে আসছে। খালটির দখল প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার ৪০ বছর পার হলেও এটি রক্ষায় কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি স্থানীয় প্রশাসন ও মির্জাপুর পৌর কর্তৃপক্ষ।
মির্জাপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি গোলাম ফারুক দিদ্দিকী বলেন, ইতোমধ্যে খালটির দু’পাড় অনেকাংশই দখল হয়ে গেছে। মির্জাপুর শহরকে বাঁচাতে হলে খালের যতটুকু আছে সেটুকুর সীমানা নির্ণয়ের পর খনন ও সংস্কার করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে অদূর ভবিষ্যতে মির্জাপুর বাজারের রাস্তাঘাটে জলাদ্ধতা সৃষ্টি করে পরিবেশ দূষণ করবে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে মির্জাপুর পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক আজিজ বলেন, খালটির কোথায় কী সমস্যা সে বিষয়ে একটি আবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






