
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় গোবিন্দাসী খাল এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। দুই পাশ থেকে দখল করে ৫০ মিটার খাল আছে ১০ মিটার। তা ব্যবহার হয় ডাজবিন হিসেবে। দেখে বোঝার উপায় নেই এখানেই এক সময় চলতো পালতোলা নৌকা। ব্যস্ততা ছিল ব্যবসা-বাণিজ্যে, ছিল নৌকার হালচালের শব্দে মুখরিত চারপাশ। সময়ের ব্যবধানে আজ সেই খাল যেন ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাওয়া এক স্মৃতি। দখল আর দূষণের চাপে প্রাণহীন হয়ে পড়েছে খালটি, হারিয়েছে তার স্বাভাবিক রূপ, প্রবাহ ও যৌবন।
শত বছরেরও প্রাচীণ এই খালটি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার যমুনা নদী থেকে শুরু হয়ে গোবিন্দাসী বাজার হয়ে অলোয়া ইউনিয়নের আমুলা গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। খালটির প্রস্থ ছিল ৫০ মিটার। যেখানে পালতোলা নৌকা থেকে শুরু করে ছোট ট্রলারও চলাচল করতো অনায়াসে। এই খালের ছিল প্রচন্ড স্রোত। কিন্তু এখন স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করে গড়ে তুলছে দোকান পাট, গুদামঘর আর বসতবাড়ি। ফলে খালটি এখন সঙ্কুচিত হয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১০ মিটারে।
বর্তমানে গোবিন্দাসী খালটি যেন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। নোংরা পানি, দুর্গন্ধ আর পঁচা আবর্জনায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে আশপাশের মানুষের। বর্ষার সময় সামান্য বৃষ্টি হলেই দেশখ্যাত গোবিন্দাসী বাজার ও আশপাশের এলাকায় দেখা দেয় তীব্র জলাবদ্ধতা। এতে প্রভাব পড়ছে কৃষি-জমিতেও। নষ্ট হচ্ছে ফসল, বাধাগ্রস্ত হচ্ছে সেচ ব্যবস্থা। খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরেয়ে আনার দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় ৮০ বছরের এক বৃদ্ধ জামাল হোসেন জানান, বিগত ১৯৬৫ সালে এই খাল দিয়ে বহু নৌকা চলাচল করতো। পালতোলা নৌকা দিয়ে এই খাল দিয়ে যাতায়াত করেছি। কিন্তু বর্তমানে স্থানীয় প্রভাবশালীরা খালটি ভরাট করে দোকান-পাট, বাড়ি-ঘর নির্মাণ করেছে। খালটি ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত করেছে। আমরা চাই খালটি যেন দখল মুক্ত করে চিনচেনা যৌবন ফিরে পাক।
স্থানীয় দোকানি ও ব্যবসায়ী লিটন, মালেকসহ অন্যরা জানান, ঐতিহ্যবাহী এই গোবিন্দাসী বাজারে সামান্য বৃষ্টি হলেই স্কুল ও দোকান পাটে দুর্গন্ধ যুক্ত পানি ওঠে যায়। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াত চরমভাবে বিঘ্ন ঘটে। দোকানে পানি ওঠে হাজার হাজার টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে যায়। আমরা প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান খাল জানান, পরিদর্শন শেষে খাল দখলমুক্ত ও পুণরুদ্ধারে প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। খুব দ্রুতই দখলমুক্ত করে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা হবে বলে আশ^াস দিয়েছেন।






