
স্টাফ রিপোর্টার, দেলদুয়ার ॥
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায় মাটি ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়ে জমির টপ সয়েল বিনষ্ট হচ্ছে। এতে কৃষি জমির উর্বরতা হুমকির মুখে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এস্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করে দিচ্ছে একটি চক্র। দেলদুয়ার উপজেলার সদর ইউনিয়নের মিরকুমুল্লী, আটিয়া ইউনিয়নের গড়াসিন, ফাজিলহাটী ইউনিয়নের সাহদারিপাড়া, ডুবাইল ইউনিয়নের ধানকি মহেড়া, এলাসিন ইউনিয়নের আগ এলাসিন ও দেওলী ইউনিয়নের বাবুপুর এবং ব্রাহ্মণখোলা এলাকার জমির টপ সয়েল মাটি ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পরে বিনষ্ট হওয়ায় এলাকায় কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এতে দেলদুয়ার উপজেলা কৃষি অফিসও উদ্ভিগ্ন।
দেলদুয়ার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা অব্যহত থাকলেও রাজনৈতিক ছত্র-ছায়ায় থাকা শক্তিশালী চক্রটি তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। জানা গেছে, ডুবাইল ইউনিয়নে অনৈতিকভাবে মাটি উত্তোলনের সাথে জড়িত আওয়ামী লীগের দুই নেতা নুরু ও রাজিব, দেলদুয়ার সদর ইউনিয়নের রিপন ওরফে মাটি রিপন, ফাজিলহাটী ইউনিয়নের শাহিন ও সরকার সহিদ উপজেলার দাপুটে নেতাদের মদদে এ ধ্বংসযজ্ঞ নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে।
একটি দুষ্টু চক্রের খপ্পরে পড়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঢালাওভাবে কৃষি জমির টপ সয়েল বিনষ্ট হচ্ছে এমন তথ্যে সদর ইউনিয়নের মিরকুমুল্লী গ্রামে অভিযান চালান উপজেলা প্রশাসন। সেখান থেকে মাটি বহনের কাজে ব্যবহৃত ৩টি ট্যাফে ট্রাক্টর আটক করা হয়। সেই সাথে মাটি উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত একটি এস্কেভেটর (ভেকু) মেশিন জব্দ করে অকার্যকর করা হয়।
এ বিষয়ে দেলদুয়ার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুল হাসান বলেন, উপজেলায় যে হারে কৃষি জমির টপ সয়েল বিনস্ট হচ্ছে তা একটি উদ্বেগের বিষয়। জমির টপ সয়েল বিনষ্টকারী দুষ্টু চক্রদের প্রতিহত করতে না পারলে ভবিষ্যতে এলাকার কৃষি পণ্য উৎপাদনের উপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এ ব্যাপারে দেলদুয়ার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাইমিনুল ইসলাম বলেন, কৃষি জমি ও নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। অভিযান চলছে এবং জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।





