
স্টাফ রিপোর্টার ॥
রোজার ঈদের আর মাত্র দুই দিন বাকি। শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত টাঙ্গাইলবাসী। পোশাকের সঙ্গে মানানসই জুতা কিনতে এখন ভিড় বাড়ছে ব্র্যান্ডের শোরুমে। নন-ব্র্যান্ড দোকানে তুলনামূলক ক্রেতা কম। টাঙ্গাইলের বিভিন্ন বিপণি বিতান ও জুতার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। বিক্রেতাদের দাবি, গত বছরের তুলনায় ব্র্যান্ডের জুতার বিক্রি ইতোমধ্যে সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং শেষ সময়ে তা আরও বাড়বে বলে আশাবাদী ব্যবসায়ীরা। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও ঈদ উপলক্ষে নতুন নকশা ও বৈচিত্র্যময় সংগ্রহ বাজারে এনে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চলছে।
জানা যায়, জুতা বেচাকেনা এখন পর্যন্ত গত বছরের কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে। ঈদের সময় ক্রেতাদের একটি বড় অংশ সাধারণত শেষ দিকে জুতা কেনেন। তাই ব্র্যান্ডগুলো আশা করছে যে শেষ পর্যন্ত তাদের বেচাকেনায় গত বছরের চেয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি হবে। গত দুদিনে বেশকয়েকটি ব্র্যান্ড ও নন-ব্র্যান্ডের জুতার দোকান ঘুরে দেখা যায়, শহরে শতাধিক নন-ব্র্যান্ডের জুতার দোকান রয়েছে। বেশির ভাগ দোকানেই ক্রেতারা জুতা কেনায় ব্যস্ত। এসব দোকানের বিক্রেতারা জানান, ব্র্যান্ডের নয়, এমন জুতার বিক্রি গত বছর ঈদের সময়ের তুলনায় খুব বেশি বাড়েনি। এছাড়া ব্র্যান্ডের জুতার দোকানগুলোতে ভিড় অনেক বেশি। ফলে তাদের বেচাকেনাও প্রত্যাশিত মাত্রার কাছাকাছি রয়েছে। বিক্রেতা রাশেদুর রহমান বলেন, শবে বরাতের পর থেকেই জুতার বেচাকেনা বৃদ্ধি পায়। চাঁদরাত পর্যন্ত এটি চলবে।
ব্যবসায়ী মাকসুদ জানান, ব্র্যান্ডের জুতা বিক্রি প্রতিবছর ১২-১৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। আর সারা বছরের বিক্রির ২৫-৩০ শতাংশ হয়ে থাকে ঈদুল ফিতরের সময়ে। এ কারণে ঈদ উপলক্ষে নতুন ধরনের ও নকশার জুতা আনেন অনেক বিক্রেতা। এই যেমন চলতি বছরে ঈদ সামনে রেখে আড়াই হাজার নকশার জুতা নিয়ে আসে বিভিন্ন কোম্পানি। এছাড়া ব্র্যান্ডের প্রায় ৯ হাজার নকশার জুতা সব সময় চলমান থাকে।
বাটার বিক্রয়েকন্দ্রের ব্যবস্থাপক মেহেদী হাসান বলেন, রোজার এক সপ্তাহ আগে থেকে বিক্রি জমতে শুরু হয়েছে। প্রথম সপ্তাহে তা পড়ে যায়। এরপর আবার শুরু হয়। এবারের বিক্রি গতবারের চেয়ে ভালো। রাত ১২টা পর্যন্ত শোরুম খোলা। নতুন ১ হাজার ডিজাইন আনা হয়েছে। গতবারের তুলনায় এবার জুতা বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি হবে বলে আশা তাঁর। এবারের ঈদে পাঁচ শতাধিক নতুন নকশার জুতা এনেছে লোটো ও লি কুপার। মার্কেটিং কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, এখন পর্যন্ত বেচাবিক্রি ভালো। আশা করছি শেষ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি হবে। কারণ, রোজার ঈদে শেষ দিকে জুতা বিক্রি হয়। জুতার পুরোনো ব্র্যান্ডের পাশাপাশি নতুন ব্র্যান্ডও বাজারে এসেছে।





