স্টাফ রিপোর্টার ॥
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ঠিক আগের দিন টাঙ্গাইল জেলার নরসুন্দরদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। ঈদে কেনাকাটার পাশাপাশি সাজগোজও অন্যতম। তাই চুল দাড়ি কেটে নিজেকে পরিপাটি করার এখনই সময়। ছেলে-বুড়ো সবাই চুল-দাঁড়ি কাটার প্রয়োজনে নরসুন্দরদের কাছে আর তরুণীরা যাচ্ছেন বিউটি পার্লারে। ঈদের সময় ঘনিয়ে আসায় জেলা ও উপজেলার প্রায় সব সেলুন ও বিউটি পার্লারে সব বয়সীদের উপচেপড়া ভিড় বাড়ছে। মানুষের চাপে সেলুনগুলোতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। দম ফেলারও যেন ফুসরত নেই কারিগরদের। শেষ সময়ে নিজেদের মনের মতো করে সাজাতে পার্লারে ছুটছেন নারীরা। বেশিরভাগ নারীই করছেন ভ্রু প্ল্যাক, হেয়ার রিবন্ডিং ও ফেসিয়াল।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সরেজমিনে জেলা শহরের বিভিন্ন সেলুন-বিউটি পার্লার ঘুরে দেখা গেছে, লম্বা লাইনে অপেক্ষায় আছেন সেবা প্রত্যাশীরা। শেষ মুহূর্তে নিজেকে আকর্ষণীয় করতে তরুণ-যুবকরা ভিড় জমাচ্ছেন, বাদ যাচ্ছেন না বয়স্করাও। নরসুন্দরের দোকানগুলোতে কর্মব্যস্ততা থাকায় কথা বলার মতো ফুসরত তাদের নেই। জানা যায়, ঈদ বা উৎসবের আগে চুল কাটার নর সুন্দরদের দম ফেলার ফুরসত থাকে না। সাধারণত উৎসবের আগের দিনগুলোতে মানুষ নতুন রূপে সাজতে চুল কাটা, শেভ করাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে ভিড় করেন। এ ব্যস্ত সময়ে নর সুন্দররা বিরতিহীন কাজ করে থাকেন। এটি বছরের এমন এক সময় যখন তাদের আয়ের অন্যতম বড় সুযোগ হয়ে উঠে। বিভিন্ন এলাকার সেলুনের নর সুন্দররা জানান, কোনো সেলুনেই চেয়ার খালি নেই। ঈদ মৌসুমে বাড়তি গ্রাহকের চাপ সামাল দিতে সেলুন মালিকরা বাড়তি কারিগর নিয়োগ করেছেন। চুল কাটা, বডি ম্যাসাজ, বিভিন্ন ধরনের ফেসিয়াল, দাড়ির বিভিন্ন কাটের পাশাপাশি অনেকেই আবার সাদা চুল কালারও করছেন। বিনিময়ে নির্ধারিত সেবামূল্যের পাশাপাশি গ্রাহকরা নর সুন্দরদের ঈদ বকশিশ দিচ্ছেন।

এদিকে দেখতে দেখতে রোজা প্রায় শেষ। ঈদ ঘরে পা রাখলো বলে। ইতিমধ্যে ঈদ শপিংও শেষ প্রায় সবারই। কিন্তু, শেষ হয়েও হলো না শেষ। নিজেকে সবচেয়ে সুন্দর লাগার প্রতিযোগিতায় সবাই ছুটছে এখন বিউটি পার্লারে। নির্দিষ্ট দিনের জন্য নিজেকে তৈরি করতে একটু আগেভাগেই প্রস্তুতি নিতে হয়। এজন্য প্রয়োজন হয় আগাম রূপচর্চার। আর এজন্যই টাঙ্গাইলের প্রতিটি বিউটি পার্লারে এখন বিভিন্ন বয়সী নারী ও তরুনীদের উপচেপড়া ভিড়। মুখ, চুল ও হাত-পায়ের শোভা বর্ধন করে নিজেকে আকর্ষণীয় করতে সবাই ব্যস্ত।
তরুণী থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের নারী প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নিজেকে ভিন্ন রুপে সাজাতে পার্লারগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় এ সময় নামদামি পার্লার ছাড়া অলিগলিতে অবস্থিত পার্লারগুলোতে দেখা যাচ্ছে উপচেপড়া ভিড়। চুল থেকে নখ পর্যন্ত আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য একেক জন নিচ্ছে একেক রকম সার্ভিস। কেউ ভ্রু প্লাক, আপার লিপ, ফুল ফ্রেম থ্রেডিং, কেউ হেয়ারস্টাইল, বিভিন্ন রকম ফেসিয়াল, চুল রিবন্ডিং, চুলের হাইলাইট, হেয়ার স্পা ট্রিটমেন্ট, মেনিকউর, পেডিকউর ইত্যাদি।
শহরের একটি বিউটি পার্লারে সার্ভিস নিতে আসা ফারহানা বলেন, আসলে ঈদ মানেই অন্যরকম একটি আনন্দের দিন। একটি বছর অপেক্ষা করতে হয়। তাই এ দিনটিতে নিজেকে সুন্দর করতে চায় সবাই। ঈদের সকালে বা বিকেলে বেড়াতে যাবার আগে যত সাজ নেয়া যায় ততই ভালো। কারণ নিজেকে ফুটিয়ে তোলার অপূর্ব সময় এটি। কেননা ঈদের দিনে সবার কাছে নিজেকে আকর্ষণীয় করে তুলতে না পারলে পুরো আনন্দই মাটি হয়ে যাবে।
বিউটি পার্লারে আসা নিতু বলেন, প্রতিমাসেই পার্লারে আসি, তবে এ আসাটা ভিন্ন। হেয়ার স্টালইটা চেঞ্জ, ফেসিয়াল, পেডিকিউর ও মেনিকিউর করতে এসেছি। ঈদ উৎসবে নিজেকে সাজানো শিল্প আর রুচির সংমিশ্রণে অভিজাত্যের নতুন প্রতীক।
পার্লারের পরিচালক শাহীনআরা মিষ্টু জানান, যেকোন উৎসবে সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে নারী শুধু চার দেয়ালে বন্দী থেকেই সাজগোজ করতেন। কিন্তু অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। ঈদের আর মাত্র এক দিন বাকি। এখনই কিছুটা সাজগোজের কাজ সেরে না নিলে হয়ত আর সময় পাওয়া যাবে না। আর তাই ঈদ উপলক্ষে নিজেকে আকর্ষণীয় তোলার জন্য প্রতিটি বিউটি পার্লারে এখন রমণীদের ভিড় বাড়ছে। তাদের কথা চিন্তা করেই অন্যান্য সময়ের তুলনার বেশি রাত পর্যন্ত খোলা রাখতে হচ্ছে।