স্টাফ রিপোর্টার ॥
সৌদি আরবে ইরানের মিসাইল হামলায় নিহত প্রবাসী শ্রমিক মোশাররফ হোসেনের মরদেহ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কীর্ত্তনখোলা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) আসরের নামাজের পর কালিয়ানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হয়। দুপুরে তাঁর মরদেহ রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কীর্ত্তনখোলা গ্রামে এসে পৌঁছায়। এ সময় মরহুমের আত্বীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
নিহত মোশারফ হোসেন ওই গ্রামের সুরজত আলীর ছেলে। তিনি গত (৮ মার্চ) ইফতারের আগমুহূর্তে সৌদি আরবের আল-খারিজ শহরের আল-তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির একটি শ্রমিক ক্যাম্পে মিসাইল বিস্ফোরণে প্রাণ হারান। একটু ভালো আয়ের আশায় মোশাররফ প্রায় আট বছর আগে চাকরি করতে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। তাঁর দুটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে মোশাররফের মরদেহ বহনকারী সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট (এসভি ৮০৬) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর উপস্থিতিতে তাঁর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান উপস্থিত ছিলেন বলে মোশাররফের স্বজনেরা জানিয়েছেন।
সখীপুরের গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন বলেন, বেলা দেড়টার দিকে মোশাররফের মরদেহ বহনকারী ফ্রিজিং গাড়ি গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছায়। এ সময় তাঁর স্বজন ও প্রতিবেশীদের শেষবারের মতো একনজর দেখতে বাড়িতে জড়ো হন। স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।