সোহেল রানা, কালিহাতী ॥
আনুষ্ঠানিকতা পেরিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছানোর এক অনন্য দৃশ্য দেখা গেল টাঙ্গাইলের কালিহাতী সদরের সাতুটিয়া-বেতডোবা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে। পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের নামাজ শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম সাধারণ মানুষের সঙ্গে কোলাকুলিতে মেতে ওঠেন। যেখানে ছিল না কোনো পদমর্যাদার দূরত্ব, ছিল শুধুই আন্তরিকতা আর ভ্রাতৃত্বের বন্ধন। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৮টায় ঈদের জামাত শেষে তিনি মুসল্লিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। একপর্যায়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কোলাকুলির এই দৃশ্য উপস্থিত সবার নজর কাড়ে। অনেকেই এটিকে “সাধারণ মানুষের ইউএনও” হিসেবে তার পরিচয়ের বাস্তব প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন।
এ সময় কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জে ও এম তৌফিক আজমসহ স্থানীয় মুসল্লি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ঈদগাহ প্রাঙ্গণে তখন উৎসবের আমেজ। নতুন পোশাকে শিশু-কিশোরদের আনন্দ, বয়োজ্যেষ্ঠদের দোয়া, আর সর্বস্তরের মানুষের মিলনমেলায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এরই মধ্যে ইউএনওর এমন সহজ-সরল উপস্থিতি ঈদের আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
এ সময় স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে এতটা সাধারণভাবে সবার সঙ্গে মিশতে দেখা খুবই বিরল। এতে করে জনগণের সঙ্গে প্রশাসনের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয় এবং আস্থার জায়গা শক্তিশালী হয়।
সাতুটিয়া-বেতডোবা ঈদগাহ মাঠে এবারের ঈদের জামাত তাই শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং এটি হয়ে উঠেছিল মানবিকতা, সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধনের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। ঈদে কোলাকুলি বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুল ইসলাম বলেন, ঈদ মানুষের মাঝে ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করে। এই দিনে সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে পেরে আমি অনেক আনন্দিত।