স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিজ বসতঘর থেকে মুক্তা আক্তার (৩৫) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, নিহতের ছেলে রাতের কোনো এক সময় তার মাকে হত্যা করে লাশ ঢেকে রাখে। এ ঘটনায় নিহত মুক্তা আক্তারের ছেলে মুরাদ হাসানকে (১৬) প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনকে আসামি দিয়ে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত মুক্তা আক্তার ওই এলাকার কাতার প্রবাসী আলহাজ মিয়ার স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মত মুক্তা তার ছেলে মুরাদ ও মেয়ে ইয়ামিনকে (৬) নিয়ে ঘুমাতে যান। রাতের কোনো এক সময় মুরাদ তার মাকে মাথায় আঘাত ও শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ ঘরের এক কোণে ঢেকে রাখে। পরে ভোরে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে মুরাদ তার ছোট বোনকে অন্য বাড়িতে রেখে সে পালিয়ে যায়। বাড়ির লোকজন মুক্তাকে না পেয়ে ঘরের তালা ভেঙে তার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, মুরাদ রাজমিস্ত্রির কাজ করলেও মাদকসেবী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। হয়তো টাকা নিয়ে ঝগড়ার সময় সে তার মাকে হত্যা করেছে বলে আমাদের ধারণা। বাসাইল উপজেলার থলবল্লা গ্রামের নিহত মুক্তা আক্তারের বাবা দানেছ মিয়া বলেন, প্রায় ১৮ বছর আগে আমার মেয়ের বিয়ে হয়েছে। তার ঘরে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। আজ দুপুরে মেয়ের বাড়ি থেকে আমাকে ফোন করে জানায় মুক্তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে আমি এসে দেখি আমার মেয়েকে মেরে ঘরের কোণায় ঢেকে রেখেছে। তিনি বাদী হয়ে মুরাদসহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামি করে সখীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। রাতের কোনো এক সময় ছেলে তার মাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে পালিয়ে গেছে। আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।