
স্টাফ রিপোর্টার ॥
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে হামের আক্রান্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ মাসের শিশু সায়ফাল মৃত্যুবরণ করেছে। হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে আরো ১৩ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। নিহত সায়ফাল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের হাতিলা গ্রামের সোহেল রানার ছেলে। বুধবার (১ এপ্রিল) দিনগত রাত প্রায় ২টার দিকে শিশুটি মারা যায়। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ১০টায় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল সুত্র জানায়, গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। বুধবার (১ এপ্রিল) বিকাল ৪টার দিকে সদর উপজেলার হাতিলা গ্রামের সোহেল রানার ছেলে সায়ফালকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিন রাত প্রায় ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, টাঙ্গাইলে হামে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত টাঙ্গাইল জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৭ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ১৩ শিশু ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে জেলায় হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) পর্যন্ত মোট ১৬ জন আক্রান্ত শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে তিনজন বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছে এবং বর্তমানে হাসপাতালে ১৩ জন ভর্তি রয়েছে। ভর্তি শিশুদের বয়স আড়াই মাস থেকে ১২ মাসের মধ্যে।
হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ সাইফুল ইসলাম জানান, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা, আক্রান্তদের আলাদা রাখা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। তিনি শিশুদের নির্ধারিত সময়ে টিকা প্রদান এবং জ্বর, ফুসকুড়ি বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক খন্দকার সাদিকুর রহমান জানান, গত কয়েকদিনে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে আলাদা একটি ওয়ার্ডের প্রয়োজন পড়ে। সেজন্য হাসপাতালের ডায়রিয়া ২০ বেডের ওয়ার্ড হামের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) হামের ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা ১৩ জন। জেনারেল হাসপাতালে হামে আক্রান্ত ১৭জন ভর্তি রোগী ছিল। এর মধ্যে ৩ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি গেছে। অপর এক আট মাসের শিশু মারা গেছে। রোগীর চাপ সামাল দিতে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ২০ বেডের একটি আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতেও হামের রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডাঃ ফরাজী মোঃ মাহবুবুল আলম মঞ্জু সাংবাদিকদের জানান, টাঙ্গাইল জেলায় এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৭ শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। এর মধ্যে ৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। বাকি শিশুদের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।






