
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের সখীপুরে মা মুক্তা আক্তারকে হত্যা করার অভিযোগে ছেলে মুরাদ হাসানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার সিডস্টোর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গত রবিবার (২৯ মার্চ) দিবাগত রাতে সখীপুর উপজেলার গজারিয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের গৃহবধূ মুক্তা আক্তারকে হত্যা করে মাদকাসক্ত ছেলে মুরাদ হাসান। মাকে হত্যা করে সে পালিয়ে যায়। নিহত মুক্তা আক্তার প্রবাসী আলহাজ্ব মিয়ার স্ত্রী। সোমবার (৩০ মার্চ) পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গজারিয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের প্রবাসী আলহাজ্ব মিয়ার স্ত্রী মুক্তা আক্তার (৩৫) তার ছেলে মুরাদ হাসান ও শিশু কন্যা ইয়ামিনকে (৫) নিয়ে প্রতিদিনের মতো রাতে ঘুমিয়ে পড়েন। রাতের কোনো এক সময় মুরাদ হাসান তার মাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে মরদেহ ঘরের এক কোণে ঢেকে রাখে। পরে বাইরে থেকে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে ভোরবেলা ছোট বোন ইয়ামিনকে নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘরে তালা দেখে বাড়ির লোকজন মুক্তাকে না পেয়ে তালা ভেঙে তার মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ছেলেটা মাদকসেবী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। অনিয়মিত ছাত্র। মাদকের টাকা না পেয়ে সে তার মাকে হত্যা করেছে বলে আমাদের ধারণা।
এ বিষয়ে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, রাতের কোনো এক সময় মুরাদ তার মাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। পরে মরদেহ লুকিয়ে রেখে ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে সোমবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় মুরাদ হাসানের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আসামী মুরাদ হাসানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।






