
নুর আলম, গোপালপুর ॥
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার পৌরশহরের বৈরাণ নদের উপর হাটবৈরাণ ব্রিজটি এখন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় এলজিইডি অফিস ব্রিজটিকে বিপজ্জনক ঘোষণা করলেও প্রতিদিন হাজারো মানুষ এবং বিভিন্ন যানবাহন জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে এই সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করছে।
জানা যায়, গোপালপুর উপজেলার হাটবৈরান এলাকার বৈরান নদীর ওপর আশির দশকে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পৌর ফান্ডে হাটবৈরাণ এলাকায় দুটি সেতু নির্মিত হয়। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী খনন করলে পশ্চিম দিকের সেতুর সব পিলার ফাঁকা হয়ে পড়ে এবং সেটি নদীতে ধসে যায়। এরপর বাড়তি চাপ পড়ে পূর্ব দিকের সেতুটির ওপর। সময়ের সাথে বর্তমানে সেটিও অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে।
ব্রিজটি সরজমিনে দেখা গেছে, দুই পাশের রেলিং ভেঙে গেছে। পাটাতনে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বিম, উইং ওয়াল এবং অ্যাবাটমেন্টে ফাটল ধরেছে। নদী খননের কারণে মাটি সরে গিয়ে দুটি পিলার পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে গেছে। ফলে যেকোনো সময় ব্রিজটি ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা এবং মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, এই সেতুর ওপর নির্ভর করে ধোপাকান্দি ও নগদাশিমলা ইউনিয়নের প্রায় দশ গ্রামের মানুষ শহরে যাতায়াত করে। ব্যবসায়ী ও কৃষকরা পণ্য পরিবহন করেন। স্কুল, কলেজ এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করে। মাঝারি যান উঠলেই ব্রিজ কাঁপতে থাকে, বড় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তার অভিযোগ, নতুন আরসিসি ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প দুই বছর ধরে ফাইলবন্দী।
গোপালপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম রুবেল বলেন, প্রতিদিনই মানুষ ভয় নিয়ে ব্রিজ পার হচ্ছে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি অবিলম্বে জীর্ণ ব্রিজটি ভেঙে প্রকল্পাধীন নতুন আরসিসি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান।
গোপালপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানায়, বৈরাণ নদের হাটবৈরাণ ব্রিজটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ হলেও এর অবস্থা খুবই করুণ। ৪৫ মিটার দৈর্ঘ্যের এই ব্রিজ নির্মাণে ৩২ লাখ টাকার এস্টিমেট, ডিজাইন ও ড্রইং তৈরি করে বিগত ২০২২ সালে প্রকল্প পরিচালক দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু অর্থাভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন আটকে আছে।
এদিকে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে ব্রিজটি পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সরেজমিন অবস্থার মূল্যায়ন শেষে তিনি ব্রিজটির পূর্ণাঙ্গ পুণর্নিমাণের জন্য সাড়ে চার কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট আব্দুর সালাম পিন্টু, গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিল্লুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম রুবেল, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কাটাতে নতুন ব্রিজটির কাজ দ্রুত শুরু হবে বলে আশাবাদ স্থানীয়দের। তাদের মতে, ব্রিজটি নির্মিত হলে চলাচলে সহজ হবে এবং এলাকাবাসী বহু বছরের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে।





