স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করটিয়া সরকারি সা'দত কলেজ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কয়েক দফায় অনার্স ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি আবেদনের সময় দেয়। সর্বশেষ বর্ধিত সময় শেষে সরকারি সা'দত কলেজে মোট ৫ হাজার ৪৪৮ জন শিক্ষার্থী ভর্তি আবেদন করেছেন বলে জানা যায়। অথচ গত বছর অর্থাৎ ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করে। কলেজে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে মোট আবেদন করেছিল প্রায় ৭ হাজার ৪৬৮ জন শিক্ষার্থী। যেখানে বিজ্ঞান গ্রুপে ৩ হাজার ২২৫ জন, ব্যবসায় শিক্ষা ১ হাজার ১৬৭ জন এবং মানবিক গ্রুপে ৩ হাজার ৭৬ জন। সেখানে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বিজ্ঞান গ্রুপে ২ হাজার ৫০০ জন, ব্যবসায় শিক্ষা গ্রুপে ৬৯৪ জন এবং মানবিক বিভাগে ২ হাজার ২৫৪ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছে। যা গতবারের তুলনায় প্রায় ২ হাজার ২০ জন শিক্ষার্থী কম আবেদন করেছে।
জানা যায়, কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ৬০০টি, মানবিক বিভাগে ১৮০০টি এবং ব্যবসা শিক্ষা বিভাগের ৭২০ টি আসন রয়েছে। বর্তমানে কিছু শিক্ষার্থীর ধারণা ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অতিরিক্ত ফেলের কারণে হয়তো এতো কম শিক্ষার্থী আবেদন করেছে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, সরকারি সা’দত কলেজ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত একটি সরকারি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিগত ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এ কলেজে স্নাতক (পাস) কোর্স, ১৮টি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান), ১৬টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর শেষ পর্ব এবং ১২টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর প্রিলিমিনারি কোর্স চালু আছে। বর্তমানে এখানে মোট ১৪ হাজার ১২৪ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।

বিগত ১৯২৬ সালে আটিয়ার চাঁদ ওয়াজেদ আলী খান পন্নী পিতামহ সাদাত আলী খান পন্নীর নামে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। ইবরাহিম খাঁ এই কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন। বিগত ১৯৩৮ সালে কলেজটি ডিগ্রি কলেজে উন্নীত হয়। এরপর ১৯৬৬ সালে অনার্স কোর্স এবং ১৯৭৪ সালে মাস্টার্স কোর্স শুরু হয়। বিগত ১৯৭৯ সালের (৭ মে) সরকারিকরণ হয়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক (পাস), ১৮টি বিষয়/বিভাগে স্নাতক (সম্মান), ১৬টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর শেষপর্ব ও ১২টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর প্রিলিমিনারি কোর্স চালু আছে। তথ্যানুসারে স্নাতক (পাশ) স্তরে ১২৮৮ জন, স্নাতক (সম্মান) স্তরে ৯৮২৫ জন এবং স্নাতকোত্তর স্তরে ৩০১১ জন মিলে মোট ১৪ হাজার ১২৪ জন শিক্ষার্থী শিক্ষাগ্রহণ করছে।
আরও জানা যায়, সরকারি সা’দত কলেজে নতুন করে পাঁচতলা বিশিষ্ট দুটি একাডেমিক ভবন, একটি ছাত্র হল ও একটি ছাত্রী হল নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। মোট পাঁচটি একাডেমিক ভবন, দুটি হিন্দু হল, তিনটি ছেলেদের হল, দুটি মেয়েদের হল রয়েছে। সমৃদ্ধশালী লাইব্রেরি রয়েছে, যেখানে আছে হাতে লেখা কোরআন শরীফ সহ আর দুর্লভ সব বই। আছে কবি নজরুল এর বিশ্রাম নেওয়া সেই স্মৃতিচারণ নজরুল কুটির। দুটি মনোরম পরিবেশের পুকুর রয়েছে। বর্তমানে চারতলা ভবন বিশিষ্ট মসজিদ নির্মিত হচ্ছে। এই কলেজে রয়েছে আলাদা মেডিক্যাল হল। যেখানে ছাত্রছাত্রীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা করা হয়ে থাকে। এছাড়া রয়েছে বিতর্ক ক্লাব ও অন্যান্য ক্লাব, বিএনসিসি, রোভার স্কাউটস, বাঁধন (স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন) সহ আরও অনেক সংগঠন। রয়েছে মাসিক সাহিত্য পত্রিকা।