বুধবার, এপ্রিল ৮, ২০২৬
Tangail News BD
No Result
View All Result
  • Login
  • হোম
  • সর্বশেষ
  • লিড নিউজ
  • টাঙ্গাইল স্পেশাল
  • টাঙ্গাইলের রাজনীতি
  • আইন আদালত
  • টাঙ্গাইলের খেলাধুলা
  • টাঙ্গাইল
    • টাঙ্গাইল সদর
    • ধনবাড়ী
    • মধুপুর
    • গোপালপুর
    • ভূঞাপুর
    • কালিহাতী
    • ঘাটাইল
    • দেলদুয়ার
    • নাগরপুর
    • বাসাইল
    • মির্জাপুর
    • সখিপুর
  • অন্যান্য
    • অপরাধ
    • টাঙ্গাইলের শিক্ষাঙ্গন
    • টাঙ্গাইলের কৃষি ও ব্যবসা
    • দুর্নীতি
    • স্বাস্থ্য
    • তথ্য ও প্রযুক্তি
    • বিনোদন
    • ভিডিও
    • সম্পাদকীয়
    • নিজস্ব মন্তব্য
SUBSCRIBE
Tangail News BD
  • হোম
  • সর্বশেষ
  • লিড নিউজ
  • টাঙ্গাইল স্পেশাল
  • টাঙ্গাইলের রাজনীতি
  • আইন আদালত
  • টাঙ্গাইলের খেলাধুলা
  • টাঙ্গাইল
    • টাঙ্গাইল সদর
    • ধনবাড়ী
    • মধুপুর
    • গোপালপুর
    • ভূঞাপুর
    • কালিহাতী
    • ঘাটাইল
    • দেলদুয়ার
    • নাগরপুর
    • বাসাইল
    • মির্জাপুর
    • সখিপুর
  • অন্যান্য
    • অপরাধ
    • টাঙ্গাইলের শিক্ষাঙ্গন
    • টাঙ্গাইলের কৃষি ও ব্যবসা
    • দুর্নীতি
    • স্বাস্থ্য
    • তথ্য ও প্রযুক্তি
    • বিনোদন
    • ভিডিও
    • সম্পাদকীয়
    • নিজস্ব মন্তব্য
No Result
View All Result
Tangail News BD
No Result
View All Result
Home আলোচিত

বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রাণের উৎসব ॥ বৈশাখী পদযাত্রা : সংকট ও রূপান্তর

এপ্রিল ৮, ২০২৬
A A
বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রাণের উৎসব ॥ বৈশাখী পদযাত্রা : সংকট ও রূপান্তর

বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রাণের উৎসব ॥ বৈশাখী পদযাত্রা : সংকট ও রূপান্তর

১১২ Views

মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল ॥
বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রাণের উৎসব, হাজার বছরের চিরায়ত ঐতিহ্যের মিলনমেলা। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে এটি বাঙালির সর্বজনীন উৎসব। এই উৎসবের অন্যতম আধুনিক সংযোজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বের হওয়া বর্ণিল শোভাযাত্রা, যা দীর্ঘকাল ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হয়ে আসছিল। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের হাওয়ায় এই শোভাযাত্রার নাম আজ এক গোলকধাঁধায় বন্দি। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং ক্ষমতার পালাবদলে এই শোভাযাত্রার নামকরণে যে ঘনঘন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে- তা বৃহত্তর জনমনে প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। কখনও ‘মঙ্গল’, কখনও ‘আনন্দ’, আর এখন স্রেফ ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ করার যে তৎপরতা- তা কি কেবল একটি নাম বদলের চেষ্টা, নাকি বাঙালির হাজার বছরের লালিত অসাম্প্রদায়িক চেতনার মূলে কুঠারাঘাত? এই নামকরণের আবর্তে কি আমাদের সংস্কৃতির মূল সুরটি হারিয়ে যাচ্ছে? নাকি এই নাম পরিবর্তনের আড়ালে লুকিয়ে আছে গভীর সামাজিক ও রাজনৈতিক মেরুকরণ। এই প্রশ্নগুলো আজ জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে।

Advertisement

মঙ্গল শোভাযাত্রার ইতিহাস খুব বেশি পুরনো নয়, কিন্তু এর শেকড় অনেক গভীরে। ১৯৮৯ সালে তৎকালীন সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের ছাত্র ও শিক্ষকরা মিলে এই শোভাযাত্রার সূচনা করেন। এই পদযাত্রার মূল সুর ছিল অশুভ শক্তিকে বিনাশ করে শুভ শক্তির আবাহন। বিশালকায় পাখি, হাতি, মাছ এবং লোকজ মোটিফের মুখোশ নিয়ে রাজপথে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দ্রুতই জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়। ২০১৬ সালে ইউনেস্কো এই শোভাযাত্রাকে ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি’ বা ‘মানবজাতির বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তখন এটি বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বজনীন এক উৎসবে পরিণত হয়। ‘মঙ্গল’ শব্দটি এখানে কোনো ধর্মীয় অর্থে নয়, বরং কল্যাণ বা শুভকামনার অর্থে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল- যা বাঙালির লোকজ ও সুফি ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে। বিশ্বদরবারে এই ‘মঙ্গল’ শব্দটির অর্থ ছিল ‘সবার জন্য কল্যাণ’ (ডবষষ-নবরহম ভড়ৎ ধষষ)।
বিগত ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। এই সংস্কারের ঢেউ এসে লাগে বাংলা নববর্ষের আয়োজনেও। ‘মঙ্গল’ শব্দটিকে ঘিরে তৈরি হয় রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক বিতর্কের দেয়াল। গত পহেলা বৈশাখ উদযাপনের সময় সরকারি নথিপত্র এবং নির্দেশনায় ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ শব্দটির পরিবর্তে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ বা ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ শব্দটির প্রচলন শুরু হয়। সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল উৎসবের মূল নির্যাস হলো ‘আনন্দ’, তাই এই শব্দটি অধিকতর অন্তর্ভুক্তিমূলক। তবে সাংস্কৃতিক কর্মীদের একটি বড় অংশ মনে করেন, ‘মঙ্গল’ শব্দটি পরিবর্তনের মাধ্যমে এই ঐতিহ্যের আদি পরিচয় এবং ইউনেস্কো স্বীকৃত নামের আবেদনকে কিছুটা হালকা করে ফেলা হয়েছে। কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই একটি প্রতিষ্ঠিত নাম বদলে ফেলা সংস্কৃতির ওপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের শামিল।
বিএনপি সরকার গঠনের পর নতুন বছরের শোভাযাত্রার নামকরণের বিতর্কটি নতুন মাত্রা পায়। বিএনপি সরকারের নীতিনির্ধারকদের একটি বড় অংশ মনে করছে ‘মঙ্গল’ এবং ‘আনন্দ’- উভয় শব্দের মধ্যেই পরোক্ষভাবে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় বলয়ের প্রভাব বা ‘সাম্প্রদায়িকতার গন্ধ’ রয়েছে। নববর্ষের এই শোভাযাত্রাকে ঘিরে অতীতে যে বিতর্ক ও ধর্মীয় মেরুকরণ তৈরি হয়েছিল, তার মূলে ছিল শব্দ চয়ন। ‘মঙ্গল’ শব্দটি অনেক ক্ষেত্রে একটি বিশেষ ধর্মের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়, আবার ‘আনন্দ’ শব্দটি উৎসবের গভীরতাকে ঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারছে না। ফলে সরকার এই নামকরণের জটিলতা নিরসনে এবং একে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্ক মুক্ত রাখতে সরাসরি ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নাম করার প্রস্তাব করেছে। যুক্তি হলো, পহেলা বৈশাখ যেহেতু বৈশাখ মাসের উৎসব, তাই ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামটিই হবে সবচেয়ে নিরপেক্ষ এবং সর্বজনগ্রাহ্য। তাই সরকারের সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ঘোষণা করেন, বিতর্ক অবসানে এখন থেকে এটি হবে কেবলই ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। এ নিয়ে শুধু বিতর্কই হচ্ছেনা- বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্তও। হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে ৫ এপ্রিল রিট আবেদন করা হয়েছে। সেখানে এই শোভাযাত্রাকে ‘নব-সৃষ্ট ও কৃত্রিম’ কার্যক্রম হিসেবে দাবি করে একে চিরতরে বন্ধের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, পহেলা বৈশাখের এই শোভাযাত্রা কোনো প্রাচীন বাঙালি ঐতিহ্য নয়; এটি ১৯৮৯ সালে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ হিসেবে শুরু হয়েছিল। রিটকারীর দাবি- মাছ, পাখি ও পশুপাখির প্রতিকৃতি নিয়ে মঙ্গল কামনা করা মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁঁকি তৈরি করতে পারে। রিটকারীর মতে, এটি বাঙালির প্রাচীন ঐতিহ্য নয় এবং এর সাথে যুক্ত বিভিন্ন অনুষঙ্গ ইসলামি আকিদার বিরোধী। আদালতে এই ধরনের রিট আসার বিষয়টি আমাদের সমাজতাত্ত্বিক বিবর্তনের এক অন্ধকার দিক নির্দেশ করে।

এই নাম পরিবর্তনে শব্দ দুটির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ব্যাখ্যা নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। ‘মঙ্গল’ শব্দের অর্থ নিয়ে রয়েছে টানাপোড়েন। সমালোচকদের একটি অংশের মতে, ‘মঙ্গল’ শব্দটি হিন্দুয়ানি সংস্কৃতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাদের দাবি, মূর্তিনির্ভর বা নির্দিষ্ট প্রতীকের মাধ্যমে ‘মঙ্গল’ কামনা করা মুসলিম ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অন্যদিকে সংস্কৃতিমনাদের মতে, মঙ্গল কোনো ধর্মের একচেটিয়া নয়, বরং এটি কল্যাণের এক বৈশ্বিক প্রার্থনা। ‘মঙ্গল’ শব্দে আপত্তি ওঠায় যখন ‘আনন্দ’ শব্দটি আনা হলো, তখনো কিন্তু বিতর্কের অবসান হয়নি। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় রক্ষণশীল গোষ্ঠীগুলো মনে করে, এই নামকরণের নেপথ্যেও সুপ্ত সাংস্কৃতিক আধিপত্যের রাজনীতি রয়েছে। ফলে বর্তমানে ‘মঙ্গল’ ও ‘আনন্দ’ উভয় শব্দকেই বাদ দিয়ে একটি ধর্মীয় নিরপেক্ষ বা বর্ণনামূলক নাম দেওয়ার দাবি ওঠে- তা হতে পারে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। তাতেও বিতর্কের অবসান হয়েছে বলে মনে হচ্ছেনা। আগামিতে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ বছরের নয় ‘মাসের’ বলে আপত্তি তুলে ‘নববর্ষের শোভাযাত্রা’ দাবি করা হবেনা- এ নিশ্চয়তা কোথায়?
শব্দতত্ত্ব নিয়ে গবেষণাকারীরা জানেন, সপ্তাহের সাতটা দিনের নাম দেব-দেবীর নাম থেকে এসেছে। রবি মানে সূর্য দেবতা, সোম মানে চন্দ্র বা শিব, আর ‘মঙ্গলবার’ হচ্ছে মঙ্গল গ্রহ বা হনুমান বা মঙ্গল চণ্ডীর দিন। বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি- এসবই গ্রহ আর দেব-দেবীর নাম। মঙ্গল যদি সাম্প্রদায়িক তকমা নিয়ে বাদ যায়, তবে বৈশাখীও তো বাদ যাওয়ার কথা। কারণ বৈশাখ শব্দটা এসেছে ‘বিশাখা’ নক্ষত্র থেকে। হিন্দু পুরাণ মতে, বিশাখা হলেন দক্ষরাজের কন্যা এবং ব্রহ্মার নাতনি। মঙ্গলকে অর্থাৎ মঙ্গল গ্রহ বা হনুমান বা মঙ্গল চণ্ডীকে সাম্প্রদায়িকতার দাঁড়িপাল্লায় মাপলে বিশাখা আরও বেশি সাম্প্রদায়িক। ‘মঙ্গল’ শব্দটা যদি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে বাদ দেওয়া যায়। ধর্মীয় গ্রন্থে বহুল ব্যবহৃত ‘আনন্দ’ শব্দটাকে সংস্কৃত হওয়ায় বাদ দেওয়া হয়। তবে বৈশাখীও বাদ যাওয়ার কথা।
নামকরণের এই ঘনঘন পরিবর্তন আসলে আমাদের জাতীয় জীবনের গভীর রাজনৈতিক মেরুকরণেরই প্রতিফলন। একদিকে এক পক্ষ মনে করেন, ‘মঙ্গল’ শব্দটি আমাদের হাজার বছরের লোকজ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ, এর সাথে ধর্মের কোনো সংঘাত নেই। বরং এটি শুভবোধের প্রতীক। অন্যদিকে, অপর পক্ষ মনে করেন, শব্দের ব্যবহারেও জনমানসের বৃহত্তর অংশের সংবেদনশীলতাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত যাতে উৎসবটি সত্যি সত্যি ‘সর্বজনীন’ রূপ পায়। একটি নাম যখন ঐতিহ্যে পরিণত হয়, তখন সেটি আর কেবল শব্দ থাকে না- তা হয়ে ওঠে একটি জাতির পরিচয়। বাঙালি যেদিন থেকে বাঙালিত্ব বাদ দিয়ে ধর্মতত্ত্বকে প্রাধান্য দেওয়া শুরু করেছে সেদিনই নিজেদের মধ্যে বিভক্তি-বিবাদ শুরু হয়েছে। মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তনের ফলে আন্তর্জাতিক মহলে এর গ্রহণযোগ্যতা এবং ইউনেস্কোর স্বীকৃতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা নিয়ে সংশয় দেখা দিতে পারে। আবার বৈশাখী শোভাযাত্রা নাম করার মাধ্যমে যদি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে উৎসবে সামিল করা যায়, তবে তা সামাজিক সংহতির জন্য ইতিবাচক হতে পারে।

Advertisement

এই যে ‘মঙ্গল’ থেকে ‘আনন্দ’ এবং শেষমেশ ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’র দিকে ধাবিত হওয়া- এটি কি বিবর্তন নাকি বিচুতি? প্রশ্ন থেকেই যায়। একটি জাতির সংস্কৃতি যখন রাজনীতির হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তখন তার স্বকীয়তা হারিয়ে যায়। বৈশাখী শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তনের এই দাবিগুলো মূলত এক ধরনের ‘সংস্কৃতিভীতি’ থেকে জন্মেছে। যখন কোনো গোষ্ঠী মনে করে যে একটি বিশেষ শব্দ বা উৎসব তাদের রাজনৈতিক বা ধর্মীয় আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করছে- তখনই তারা তার নাম বা রূপ বদলাতে চায়। বাঙালির দীর্ঘ লড়াই ছিল ধর্ম ও রাষ্ট্রকে আলাদা রেখে একটি সমন্বিত বাঙালি জাতিসত্তা গড়ে তোলা। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ- সবখানেই মূলমন্ত্র ছিল অসাম্প্রদায়িকতা। সাধারণ মানুষের কাছে বড় প্রশ্ন হলো- নাম যা-ই হোক, উৎসবের প্রাণভোমরা কি অক্ষুন্ন থাকছে? মাটির সরা, মুখোশ আর লোকজ বাদ্যের সেই চিরচেনা রূপ কি রাজনৈতিক রঙের আড়ালে ঢাকা পড়ে যাবে? পহেলা বৈশাখ কোনো একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বা নির্দিষ্ট মতাদর্শের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি সাধারণ কৃষকের হালখাতা থেকে শুরু করে নগরের রাজপথের বর্ণিল মিছিল পর্যন্ত বিস্তৃত একটি বৃহৎ ক্যানভাস। মঙ্গল, আনন্দ কিংবা বৈশাখী শোভাযাত্রা- নামের চেয়েও বড় সত্য হলো বাঙালির ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আকাক্সক্ষা। রাজনৈতিক পালাবদলে নামকরণের পরিবর্তন হয়তো প্রশাসনিকভাবে সহজ, কিন্তু মানুষের মন থেকে কোনো সাংস্কৃতিক চেতনা মুছে ফেলা কঠিন।
একটি জাতির প্রাণশক্তি নিহিত থাকে তার সংস্কৃতির স্বকীয়তায়। পহেলা বৈশাখ আমাদের সেই স্বকীয়তার ধারক। নাম নিয়ে বিতর্ক কমিয়ে যদি উৎসবের চেতনাকে সমুন্নত রাখা যায়- তবেই তা সার্থক হবে। আশা করা যায়, সব রাজনৈতিক বিতর্ক এবং সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে উঠে বাংলা নববর্ষ হয়ে উঠবে সত্যিকারের মিলনের মহামঞ্চ। যেখানে নামের বিভেদ থাকবে না, থাকবে শুধু সম্প্রীতির এক অনন্য বাংলাদেশ। বৈশাখী শোভাযাত্রা বা আনন্দ শোভাযাত্রা অথবা মঙ্গল শোভাযাত্রা- পরিচয় যা-ই হোক, তা যেন বাঙালির অসাম্প্রদায়িক আত্মাকে বিশ্বদরবারে সগৌরবে তুলে ধরে। বাঙালির এই বর্ণিল পদযাত্রাকে রাজনৈতিক গোলকধাঁধায় বন্দি না করে, একে তার স্বনামে এবং স্বমহিমায় টিকে থাকতে দেওয়াটাই হবে প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও উদারমনা আচরণ। অন্যথায়, ‘মঙ্গল’ বা ‘আনন্দ’ অথবা ‘বৈশাখী’ হারিয়ে আমরা কেবল একটি প্রাণহীন ‘শোভাযাত্রা’র সাক্ষী হয়ে থাকব- যা আমাদের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের পাতায় কেবল এক করুণ অধ্যায় হিসেবেই চিহ্নিত হবে।
লেখক: মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল, সাংবাদিক ও কলাম লেখক।
নিজস্ব মন্তব্য প্রতিবেদন।

ফটো কার্ড
শেয়ার করুন
Tags: News Tangailtangail newsটাঙ্গাইলটাঙ্গাইল জেলাটাঙ্গাইল নিউজটাঙ্গাইল সদরটাঙ্গাইল সংবাদটাঙ্গাইলের খবরটাঙ্গাইলের নিউজটাঙ্গাইলের সংবাদবাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রাণের উৎসব ॥ বৈশাখী পদযাত্রা : সংকট ও রূপান্তর
Next Post
স্কাউট দিবসে গোপালপুরে র‍্যালি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

স্কাউট দিবসে গোপালপুরে র‍্যালি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

সর্বশেষ সংবাদ

টাঙ্গাইলে জ্বালানী সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত!

টাঙ্গাইলে জ্বালানী সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত!

এপ্রিল ৮, ২০২৬
টাঙ্গাইলে ৬ জন মাদক বিক্রেতা ও ৩ জন মাদকসেবী গ্রেফতার

টাঙ্গাইলে ৬ জন মাদক বিক্রেতা ও ৩ জন মাদকসেবী গ্রেফতার

এপ্রিল ৮, ২০২৬
কালিহাতীর হাতিয়ায় বাসের ধাক্কায় ঝরল ভ্যান চালকের প্রাণ

কালিহাতীর হাতিয়ায় বাসের ধাক্কায় ঝরল ভ্যান চালকের প্রাণ

এপ্রিল ৮, ২০২৬
ঘাটাইলে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন

ঘাটাইলে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন

এপ্রিল ৮, ২০২৬
স্কাউট দিবসে গোপালপুরে র‍্যালি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

স্কাউট দিবসে গোপালপুরে র‍্যালি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

এপ্রিল ৮, ২০২৬

সম্পাদক ও প্রকাশক

ইফতেখারুল অনুপম

বার্তা বিভাগ

যোগাযোগ: ০১৮১৬২৭৪০৫৫, ০১৭১২৬৯৫৪৪৬
ঠিকানা:
বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ মার্কেট (২য় তলা) সিডিসি’র দক্ষিণ পাশে, খালপাড় গলি, নিরালা মোড়, টাঙ্গাইল-১৯০০
ই-মেইল:
tangailnewsbd@gmail.com
ianupom@gmail.com

Tangail News BD

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

Design & Developed by Tangail Web Solutions

  • About Us
  • Contact Us
  • Privacy Policy
  • Cookies Policy
  • Terms and Conditions
No Result
View All Result
  • হোম
  • সর্বশেষ
  • লিড নিউজ
  • টাঙ্গাইল স্পেশাল
  • টাঙ্গাইলের রাজনীতি
  • আইন আদালত
  • টাঙ্গাইলের খেলাধুলা
  • টাঙ্গাইল
    • টাঙ্গাইল সদর
    • ধনবাড়ী
    • মধুপুর
    • গোপালপুর
    • ভূঞাপুর
    • কালিহাতী
    • ঘাটাইল
    • দেলদুয়ার
    • নাগরপুর
    • বাসাইল
    • মির্জাপুর
    • সখিপুর
  • অন্যান্য
    • অপরাধ
    • টাঙ্গাইলের শিক্ষাঙ্গন
    • টাঙ্গাইলের কৃষি ও ব্যবসা
    • দুর্নীতি
    • স্বাস্থ্য
    • তথ্য ও প্রযুক্তি
    • বিনোদন
    • ভিডিও
    • সম্পাদকীয়
    • নিজস্ব মন্তব্য

Design & Developed by Tangail Web Solutions

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In