
মধুপুর সংবাদদাতা ॥
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় এক সময়ের প্রবাহমান কুচিয়া খাল ভরাট খাল দখন দূষনে বিপন্ন হয়েছিল। হারিয়ে ছিল তার উত্তাল যৌবন। ভরাট করে স্থানীয়রা বানিয়ে ছিল ফসলী জমি। থেমে যায় তার স্বাভাবিক পানি প্রবাহ। হারিয়ে যেতে থাকে খালের অস্তিত্ব। ড্রেনের মত হয়ে বিলীনের পথ ধরে খালটি। গতি হারা কুচিয়া খাল নিজেকে নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে। জলবদ্ধতা দেখা দেয় সামান্য বৃষ্টিতেই। ধারণ ক্ষমতা একেবারে কমে আসে। অথচ এক সময় প্রবল বৃষ্টি আর জলপ্রবাহে খালটি থাকত চির যৌবনা। কালের পরিক্রমায় খালটি ধীরে ধীরে তার অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে।
বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিলে মধুপুর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের রক্তিপাড়া গ্রামের কুচিয়া খালটি খননের উদ্যোগ গ্রহণ করে স্থানীয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন টাঙ্গাইলের ত্রাণ ও পুর্ণবাসন কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান।
খাল খননের পূর্বে এক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজীব আল রানা। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নঈম উদ্দিন, মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন, পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছামাদ, আলোকদিয়া ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছামাদ।
মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব আল রানা, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা শহিদুজ্জামান, মৎস্য কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান, সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোস্তফা হোসাইন, বিআরডিবি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি ইউসুফ জাই প্রিন্স, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মোতালেব হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি এম রতন হায়দার, জয়নাল আবেদীন বাবলু, পৌর বিএনপি নেতা আব্দুল লতিফ পান্না, বিএনপি নেতা মেহেদী হাসান মিনজু, ইউনিয়ন বিএনপি নেতা রেজাউল করিম বাবলু, যুবদল নেতা শেখ হযরত আলী, ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দীনসহ সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মধুপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ধাপে ধাপে মধুপুর উপজেলায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এর অংশ হিসেবে কুচিয়া খালটি সারাদেশের ন্যায় খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। এ খাল প্রায় ৯.৬০ মিটার খনন করা হবে। এ খালটি খনন হলে কৃষিতে ব্যাপক কাজে আসবে। জলাবদ্ধতা দূর হবে। সেচের সুবিধা হবে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, এক সময় এ খালটি পানির প্রবাহ ছিল। সেচের সুবিধা হতো। গরু বাছুর ধোঁয়ানো হতো। গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার করা হতো খালের পানি। কালের পরিক্রমায় খারটি তার অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে প্রায় ২৪ বছর ধরে মৃত প্রায়। খনন হলে স্থানীয়দের কৃষিতে সুফল বয়ে আসবে।
মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার বলেন, ভোটারদের হাতের কালিই এখানো শুকিয়ে যায়নি। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইস্তেহারের কাজ শুরু দিয়েছে। এ খাল খনন তার মধ্যে অন্যতম। এ খালটি খনন হলে এলাকায় কৃষিতে বিপ্লব হবে।
এ বিষয়ে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন বলেন, সারাদেশের ন্যায় মধুপুর উপজেলাতেও খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ৯.৬০ মিটার কুচিয়া খালটি খনন কাজের উদ্বোধন হয়েছে। এটি খনন হলে এলাকার কৃষিতে ব্যাপক কাজে আসবে বলে তিনি মনে করেন।






