
হাবিবুর রহমান, মধুপুর ॥
চারদিকে ঘন বন, বড় বড় বৃক্ষে ঢাকা পড়ে আছে। বনের মাঝখানে খোলা মাঠ। মাঠের চারদিকে তাবু টানোনো। বেশিররভাগ অংশগ্রহণকারি স্কুল পড়ুয়া। কারো বয়স ১০, কারো ১৫, কারো বা ১৪ বছর। ১০-১৫ বছর বয়সী শিশুদের আনাগোনা মাঠে। এদের মধ্যে অনেকেই রান্না করছে। কেউ পানি আনছে। মাঠ ঘিরে যেন শিশু কিশোরদের মিলন মেলা। সবার মুখেই হাসি যেন প্রাণভড়া। পড়নে আকাশী রঙের শার্ট, নেভীব্ল প্যান্ট পড়া। গলায় সবুজ রঙের স্কাফ। শরীরের প্যাচানো বাহারি স্কিকারে ব্যাচে ভরা। বলছিলাম স্কাউটদের কথা। দেশে প্রথমবারের মতো শুরু হওয়া আঞ্চলিক স্কাউট অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্প। এ ক্যাম্প ঢাকা বিভাগের রোভার স্কাউটদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এটি হচ্ছে টাঙ্গাইলের মধুপুর জাতীয় উদ্যানের দোখলা মাঠে। যেন রোমাঞ্চ, চ্যালেঞ্জ আর স্কাকাউটদের শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতার এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হতে হয়েছে। স্কাউটদের দক্ষতা বৃদ্ধি, নেতৃত্বগুণ বিকাশ এবং ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে দেশের প্রথম আঞ্চলিক স্কাউট অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্প শুরু হয়েছে । গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) থেকে চার দিনব্যাপী এই বিশেষ আয়োজনের উদ্বোধন হয়েছে।। মধুপুর বনাঞ্চলের দোখলা জাতীয় উদ্যানের মনোরম পিকনিক স্পটে আয়োজিত ব্যতিক্রমধর্মী এই ক্যাম্প আগামীকাল রবিবার (১৯ এপ্রিল) পর্যন্ত চলবে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) এই ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন, স্কাউটের আঞ্চলিক কমিশনার ড. সাধন কুমার বিস্বাস, আঞ্চলিক সম্পাদক আতাউর রহমান, টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, ক্যাম্প সভাপতি শফিকুর রহমান, সার্বিক তত্ত্বাবধায়ক আঞ্চলিক উপ কমিশনার প্রোগ্রাম সায়েদ বাসিত প্রমুখ। এ সময় সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ,অভিভাবক ও স্কাউটরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরু অতিথিদের ফুল ও স্কেস্ট দিয়ে বরণ করা হয়। স্কাউটের ক্যাপ ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে সম্মান জানান আয়োজক কমিটি।
লাদেশ স্কাউট মধুপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ জানান,, বাংলাদেশ স্কাউটস, ঢাকা অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় আয়োজিত “প্রথম আঞ্চলিক স্কাউট অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্প-২০২৬” এ অংশ নিচ্ছে ঢাকা অঞ্চলের ১৪টি জেলার বাছাইকৃত প্রায় ৭০০ জন স্কাউট। স্কাউটার ও কর্মকর্তা এ ক্যাম্পে অংশ নিয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন রোমাঞ্চকর, চ্যালেঞ্জিং ও সেবামূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতা যাচাইয়ের সুযোগ পাবে। তিনি আরো জানান,, এই আয়োজনকে সফল করতে বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা মহোদয়কে প্রধান উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ স্কাউটস, ঢাকা অঞ্চলের কোষাধ্যক্ষকে সভাপতি করে ১৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের অভিভাবক মঞ্জুরা বেগম, তার মেয়ে এ ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করেছে। তারমতে, মেয়ের নতুন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। শিক্ষা ক্ষেত্রে তার অনেক কাজে আসবে। মেধা মনন বিকাশ তরানিত্ব করবে বলে তিনি মনে করেন। আগাঁরগাও তালতলা সরকারি কলোনী উচ্চ বিদ্যালয়ের স্কাউট গৌরি দাস মৌমিতা বলেন, বাচ্চারা অপরিচিত মানুষদের সাথে কথা বলল। প্লাস্টিক প্রতিরোধ শিখছে। কিভাবে প্রতিকূল পরিবেশ নিজেকে চালাবে সেটা শিখছে। দারুন অনুভূতি তার মতে। ঢাকা উদ্যান সরকারি মহাবিদ্যালয়ের রোভার স্কাউট গ্রুপের আয়শা আক্তার বলেন, নিজের কাজ নিজের করা। এখানকার পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানো শিখে যাচ্ছে। শহর আর গ্রামের মধ্যে পার্থক্য শিখতেছে।
মধুপুর উপজেলা স্কাউট কমিশনার তারেকুল ইসলাম, রেডবেঞ্চার ক্যাম্প এখনও কোথাও হয়নি, এই প্রথম হচ্ছে। সারাদিন তারা নানা মুখী স্কাউট কার্যক্রম অংশ নিচ্ছে। নিজস্বভাবে উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে তারা কাজ করছে।তাদের মধ্যে রিলেসন ভাব সৃষ্টি হয়। স্কাউট টাঙ্গাইল ইউনিট কমিটির কমিশনার আবু বকর সিদ্দিক জানান, ক্যাম্পে প্রতি অঞ্চল থেকে একটি করে স্কাউট দল অংশ নিচ্ছে। স্বাগতিক মধুপুরের চারটি দল পাচ্ছে এই সুযোগ। প্রতিটি দলে রয়েছে ৮ জন স্কাউট ও ১ জন ইউনিট লিডার। চার দিনের এই ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারীরা দলগত কাজ, নেতৃত্ব, সাহসিকতা ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের আরও দক্ষ করে তুলবে।






