স্টাফ রিপোর্টার ॥
ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের যে সংকট তৈরি হয়েছে ও দাম বৃদ্ধির মারাত্মক প্রভাব পড়েছে টাঙ্গাইল জেলার রান্না ঘরেও। সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দাম বেড়েছে মাছ-সবজিসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের। বিশেষ করে কাঁচা বাজারে গিয়ে আগুন দাম দেখে নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের। রোববার (১৯ এপ্রিল) টাঙ্গাইলের কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ও দাম বৃদ্ধির কারণে পণ্যবাহী ট্রাক ও লরি চলাচল কমেছে। যারা গাড়ি চালাচ্ছেন তারা স্বাভাবিকের চেয়ে তিন থেকে চারগুণ বেশি ভাড়া দাবি করছেন। ফলে উৎপাদিত পণ্য টাঙ্গাইলে পৌঁছাতে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। যার প্রভাব পড়ছে পণ্যের দামে এবং ক্রেতার ওপর।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে টাঙ্গাইল জেলা শহরের পার্ক বাজার, ছয়আনি বাজার, সিটি বাজার এবং সন্তোষ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, উত্তরবঙ্গ বা দক্ষিণাঞ্চল থেকে সবজি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যবাহী ট্রাক আসা অনেক কমে গেছে। বাজারে পণ্যের সরবরাহ কম। এ কারণে দামও বাড়তি। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত তিন দিনের ব্যবধানে সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা। বাজারে ৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। করলা, বেগুন ও ঝিঙের মতো সাধারণ সবজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি।
পরিবহন সংকটের কারণে খামার থেকে মুরগি ও মাছের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ব্রয়লার মুরগি ও মাছের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। গরু ও খাসির মাংসের দাম বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষ আমিষের চাহিদা পূরণে নির্ভর করে থাকে মুরগির ওপর। রমজানের শেষদিকে মুরগির দাম বেশি ছিল, ঈদের পর কিছুটা কমে আসে। তবে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কারণে পরিবহন সংকট দেখিয়ে ফের বেড়েছে মুরগির দাম।
রোববার (১৯ এপ্রিল) বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হয়েছে ২২০-২৩০ টাকায়; সোনালি ৩৫০ থেকে ৩৭০; দেশি মুরগি ৬৫০ এবং দেশি মোরগ ৭৩০ থেকে ৭৫০ টাকা। একইভাবে সরবরাহ কমে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের মাছ বলে পরিচিত পাঙাশ, তেলাপিয়া, পোয়া মাছের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। বাজারে পাইকারি বিক্রেতা মিজানুর রহমান বলেন, বগুড়া থেকে যে ট্রাক আগে ১৫ হাজার টাকায় আসত, এখন সেটার ভাড়া চাচ্ছে ৪৫ হাজার টাকা। এতো ভাড়া দিয়ে মালামাল আনলে তো আমাদের লোকসান হবে, ক্রেতারাও তা কিনতে পারবেন না।
বাজারে পণ্য কিনতে এসেছেন পাইকারি বিক্রেতা আবু সায়েম। তিনি বলেন, আগে একটি পিকআপ ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা ভাড়ায় যেত। তবে তেলের সংকট দেখিয়ে সেই ভাড়া এখন ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকায় যেতে হয়। ফলে দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় থাকে না। বাজারে কেনাকাটা করতে আসে বেসরকারি চাকরিজীবী আনিসুর রহমান বলেন, বেতন তো বাড়েনি, কিন্তু তেলের দোহাই দিয়ে বাজারের সবকিছুর দাম অনেক বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতির মারপ্যাঁচে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পকেট খালি হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে না খেয়ে থাকা ছাড়া উপায় নেই।
বাজারে কথা হয় সরকারি চাকরিজীবী মহিউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঈদের পর বাজারে পণ্য ছিল, কিন্তু ক্রেতা ছিল না। ফলে দাম ছিল কম। এখন হয়েছে উল্টো। দাম এতো বেড়েছে যে, অন্যান্য খরচের বাজেটে কাটছাঁট করতে হচ্ছে। কাঁচাবাজারে ক্রেতা গাজী আকরাম বলেন, দুটি মুরগি কেনার চিন্তা করে বাজারে এসেছিলাম। এখন একটি কিনেই ফিরতে হচ্ছে। তিনি জানান, ৩৭০ টাকা কেজি দরে একটি পাকিস্তানি হাইব্রিড মুরগি কিনেছেন। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, দাম বেশি হওয়ায় মানুষ এখন পরিমাণে অনেক কম কিনছে। যার ফলে ব্যবসায় মন্দা ভাব চলছে।