নুর আলম, গোপালপুর ॥
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় নজিরবিহীন বিদ্যুৎ ও ডিজেল সংকটে বোরো জমিতে সেচ সংকট চলছে। থোড় ধান রোদে পুড়ছে। এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের সিসিসি ক্যামেরা পর্যন্ত অচল থাকছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, এবার গোপালপুর উপজেলায় ১৩ হাজার ৮৯০ হেক্টরে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড ৪ হাজার ১৫০ এবং উফসী ৯ হাজার ৭৪০ হেক্টর। সেচের জন্য নলকূপ রয়েছে ৫ হাজার ৩০১টি। এর মধ্যে বিদ্যুৎ চালিত ৩ হাজার ৩৭৮টি। এদিকে বিদ্যুৎ সংকটে চলতি এসএসসি পরীক্ষার ৯ কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বন্ধ ছিল।
গোপালপুর উপজেলা কৃষি অফিসার শামীমা আক্তার জানান, হাইব্রিড জাতের ধানে এখন থোড়, নয়তো শীষ বের হয়েছে। উফসী জাতের ধানে দুধ এসেছে। বিগত দুই সপ্তাহ ধরে চলছে প্রচন্ড খরা। বৃষ্টিও হচ্ছে না। ভালো উৎপাদন পেতে এ সময়টাতে জমিতে কমপক্ষে দুই ইঞ্চি করে পানি জমে থাকা বাঞ্ছনীয়। কিন্তু বিদ্যুৎ ও ডিজেল সংকটের কারণে সেচ পাম্প পরিচালনা করতে না পারায় সংকট চলছে। উঠতি বোরো ধান বিনষ্ট হচ্ছে। এ দিকে কৃষকরা যাতে সময়মত ডিজেল পায় এজন্য ৯০৫ জন কৃষককে ফুয়েল কার্ড দেয়া হয়েছে। ডিজেলের জন্য পেট্রোল পাম্পে তারা লাইন দিয়ে বসে থাকছে।
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর গোপালপুর জোনাল ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেন জানান, বিদ্যুৎ চাহিদা ২৩ থেকে ২৪ মেঘওয়াট। ঘাটাইল পিডিবির গ্রিড সাবষ্টেশন থেকে সরবরাহ মাত্র ৬ মেঘওয়াট। চাহিদার এক চতুর্থাংশ বিদ্যুৎ দিয়ে পৌরসভাসহ ৭টি ইউনিয়নে সরবরাহ করায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে ২/৩ ঘন্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে বিদ্যুৎ নির্ভর সেচ যন্ত্র ঘন্টার পর ঘন্টা অচল থাকে। ক্ষুব্দ গ্রাহকরা বিদ্যুতের দাবিতে অফিসে এসে ঝামেলা করছে। গোপালপুর উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক হাতেম আলী জানান, ডিজেল ও বিদ্যুৎ সংকটের দরুন বোরো ফসল পুড়ছে। কৃষকরা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।
গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিল্লুর রহমান জানান, এখানে কোন ডিজেল সংকট নেই। তবে প্রচন্ড বিদ্যুৎ সংকট রয়েছে। সংকট নিরসনের জন্য পিডিবির ঘাটাইল গ্রিড সাবষ্টেশন থেকে গোপালপুর পর্যন্ত সাত কিলো দীর্ঘ পৃথক সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা গেলে এ সংকট নিরসন করা সম্ভব।