
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় কুকুরের কামড়ে দুদিনে শিশু ও নারীসহ অন্তত ৫৪ জন আহত হয়েছেন। এদের একজনকে ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) ও রোববার (২৬ এপ্রিল) সখীপুর উপজেলার সানবান্দা, বিজ্ঞানাগার, বাগানচালা, ময়থাচালা, উত্তরা মোড়, দেবলচালা, আন্ধি, কালিয়া, ঘোনারচালা, কচুয়া, দামিয়া এলাকার নারীসহ অন্তত ৫৪ জন কুকুরের কামড়ের শিকার হন।
এদিকে হঠাৎ কুকুরের আক্রমণে আহত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ভ্যাকসিনের সংকট দেখা দিয়েছে। রোগীরা পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে কালিয়া ইউনিয়নের দেবলচালা গ্রামের আব্দুর রশিদসহ কয়েকজন নারী ও শিশুকে কামড় দিয়ে কুকুরটি সখীপুর পৌর শহরের দিকে প্রবেশ করে। এরপর আন্ধি থেকে পৌর শহরের উত্তরা মোড় পর্যন্ত কমপক্ষে ২০ জনকে কামড় দেয়। রোববার (২৬ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে কুকুরটি দৌড়ে কাহারতা গ্রাম হয়ে কচুয়া চলে যায়। এরপর সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালের দিকে কুকুরটি কালিয়া, ঘোনারচালা ও সর্বশেষ দামিয়া গ্রামের বেশকয়েকজন নারী ও শিশুকে কামড়ায়। আহতদের মধ্যে অন্তত নয়জন শিশু ও ১০ জন নারী রয়েছে। দু’দিনে আহতদের মধ্যে ৫৪ জন সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরের পর কুকুরের আক্রমণে আহত হয়ে পাঁচ-সাতজন চিকিৎসা নিতে আসেন। পরে ওই দিনই একে একে ৩১ জন কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়ে চিকিৎসা নেন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আরও ২৩ জন কুকুরে কামড়ানো রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।
আহত মেহেরা বেগম (৫০) বলেন, আমার নাতনিকে কোলে নিয়ে সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ একটি কুকুর এসে নাতনিকে কামড় দেওয়ার চেষ্টা করলে আমি হাত দিয়ে বাধা দিই। এ সময় কুকুরটি আমার হাতেই কামড় বসিয়ে দেয়।
এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেহানা পারভীন বলেন, দুই দিনে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে ৫৪ জন রোগী হাসপাতালে এসেছেন। তাদের সবাইকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে কুকুরে কামড়ানো রোগীর পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন বরাদ্দ নেই। জরুরি ভিত্তিতে কয়েকজনকে হাসপাতাল থেকেই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। অনেকে বাইরে থেকেও ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও আব্দুর রশিদ নামের একজনকে ঢাকার সংক্রমণ ব্যাধি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বেশি ক্ষত হওয়া কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি কুকুরের বিষয়ে উপজেলার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।





