স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার্থীরাসহ জনগন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। উপজেলার পৌর এলাকায় লোডশেডিং সহনীয় মাত্রায় থাকলেও, প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকায় দৈনিক ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ও জনগনের জীবনযাত্রায় ব্যাপকভাবে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সর্বোচ্চ চাহিদার সময় পুরো সখীপুর উপজেলায় ৩৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন থাকলেও, দৈনিক গড়ে ১৪ থেকে ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। কোনো কোনো সময় ১০ মেগাওয়াটেও নেমে আসে। যার কারণে এতো লোডশেডিং দেখা দেয়। পুরো উপজেলায় ১৭টি ফিডারের মধ্যে দুই-তিনটি ফিডারে লোডশেডিং কম হলেও বেশিরভাগ ফিডারে লোডশেডিং বেশি হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্কুলশিক্ষক মজিবর রহমান বলেন, রাতের বেলা বাচ্চাদের পড়ার সময় বিদ্যুৎ থাকে না। টর্চ লাইট অথবা মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়ালেখা করতে হচ্ছে। এভাবে শিক্ষার্থীরা মনোযোগ সহকারে পড়াশোনা করতে পারছে না।
উপজেলার কেজিকে উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া আলিফা নওশীন বলে, গরমে বিদ্যুৎ থাকে না। রাতের বেলা মোমবাতি আর মোবাইলের আলোয় পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
শাহ আলম নামে এক অভিভাবক বলেন, ঝড়ের আগে বিদ্যুৎ যায়, সেই বিদ্যুৎ দুই দিন পর পেয়েছি। ফ্রিজের সব মাছ-মাংস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পানি সংকটে অন্য বাড়ি থেকে পানি আনতে হচ্ছে। দুর্ভোগের যেন শেষ নেই।
এ ব্যাপারে সখীপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর তালুকদার জানান, পিক আওয়ারে চাহিদার তুলনায় তিন ভাগের এক ভাগ বিদ্যুৎ পাচ্ছি। যার ফলে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। আর ঝড়-বৃষ্টি হলে লাইনের উপর গাছ উপরে পড়ে। এজন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে দেরি হয়৷ কারণ চাহিদার তুলনায় লোকবল সংকটও আছে।