স্টাফ রিপোর্টার ॥
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, টাঙ্গাইলে ৪১ কোটি টাকা ব্যায়ে ৫২ কিলোমিটার নদী পুনঃ খননের কাজ করা শুরু করা হলো। দেশের প্রতিটি জেলায় পর্যায়ক্রমে নদী ও খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। এই নদী পুনঃখনন মাধ্যমে টাঙ্গাইলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং শুকনো মৌসুমে পানির সংকট দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শনিবার (২ মে) সকালে টাঙ্গাইলের করটিয়া ইউনিয়নে ধলেশ্বরী ও লৌহজং নদী পুনঃখনন এবং টাঙ্গাইল পৌর নদীতীর প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তৃণমূলের কৃষকদের আরও স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। নদী যে জায়গায়, সেই জায়গায় খনন হবে। আশেপাশে যদি কেউ দখল করে থাকে। তাহলে অবশ্যই প্রশাসন দখলদার মুক্ত করবে। নদী বাঁচলে টাঙ্গাইল বাঁচবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে যেমন মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন ঘটবে। অন্যদিকে টাঙ্গাইল পৌরসভা ভাঙন ও বন্যা থেকে রক্ষা পাবে। বর্তমান সরকার জলাশয় ও নদী রক্ষায় বদ্ধপরিকর।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের পলি জমে ভরাট এবং দখল-দূষণের শিকার হওয়া ধলেশ্বরী ও লৌহজং নদী খনন করার ফলে এই অঞ্চলের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং কৃষি ও পরিবেশের আমূল পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে টাঙ্গাইল পৌর এলাকায় নদীতীর প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের ফলে শহরের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নে জেলা আওতাধীন ধলেশ্বরী ও লৌহজং নদী পুনঃখনন এবং পৌর এলাকায় নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দিন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন মিয়া। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, জেলা যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খন্দকার আহমেদুল হক সাতিল, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দলীয় নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।