
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এক নারীর অশ্লীল ছবি ধারণ করে মোবাইলের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফী তৈরি করে তা ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে লিপসন খানের বিরুদ্ধে। একই সাথে অশ্লীল ছবি দেখিয়ে ওই নারীর স্বামীর সাথে বিচ্ছেদও করানো হয়েছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, লিপসন খান আমার পূর্ব পরিচতি। তিনি আমার অজ্ঞাতে ছবি উঠায় এবং তার নিজের ছবির সাথে আমার ছবি যুক্ত করে বিভিন্ন প্রকার অশ্লীল ছবি তৈরি করেন। পরে সে ছবিগুলো দেখিয়ে আমাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখায় এবং তার কথা মত কাজ করতে বলে। পরবর্তীতে আমার কাছে ৩ লাখ টাকা দাবি করে হুমকি দেয়।
আমি টাকা দিতে না পারায় বিগত ২০২৫ সালের (৩ অক্টোবর) লিপসন খান তার সাথে আমার ছবি যুক্ত করে অশ্লীল ছবি তৈরি করে। পরে সে ছবিগুলো আমার কিছু আত্মীয়-স্বজনদের মোবাইলে প্রেরণ করে। এ অবস্থায় গত বছরের (৯ অক্টোবর) পরিবারের লোকজন আমাকে ময়মনসিংহে বিয়ে দেয়। আমি স্বামীর বাড়িতে গিয়ে সংসার করা অবস্থায় লিপসন খান পুণরায় ৩ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না পেয়ে গোপনে স্বামীর সাথে যোগাযোগ করে মোবাইলে বিভিন্ন অশ্লীল ছবি পাঠায়। লিপসন খান আমার স্বামীকে ছবি দেখিয়ে আমাদের সর্ম্পক নষ্ট করার চেষ্টা করছিল।
এ অবস্থায় বিগত ২০২৫ সালের (২২ অক্টোবর) আমার স্বামী গোপনে আমাকে তালাকের নোটিশ প্রেরণ করে। ওই বছরের (২৭ অক্টোবর) স্বামীর বাড়িতে গেলে স্বামী আমাকে বলে, তোমাকে তালাক দেয়া হয়েছে। তুমি বাবার বাড়ি চলে যাও। পরবর্তীতে আমি নিরুপায় হয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসি।
মামলার বিবরণে আরও বলা হয়, আমার স্বামীর সাথে সংসার বিচ্ছিন্ন করিয়েও থেমে থাকেননি লিপসন খান। পরবর্তীতে আমার আত্মীয়-স্বজন এবং পরিচিত অনেকের মোবাইলে নানাভাবে অশ্লীল ছবি প্রেরণ করে। এ ঘটনায় লিপসন খানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আদালতে মামলা দায়ের করেছি।
ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, আমি ন্যায়বিচারের জন্য আদালতে মামলা দায়ের করেছি। বর্তমানে বিষয়টি আদালত ও পুলিশ দেখছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত লিপসন খান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি ভুল বশত এমন কাজ করেছি।
এ ব্যাপারে ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকছেদুর রহমান বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।






