স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলে ভেজাল ডিজেল তৈরি ও তা অবৈধভাবে বাজারজাত করণের অভিযোগ রয়েছে। ডিজেল তৈরির বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি সাইনবোর্ড বিহীন বিএসটিআই ও পরিবেশ অধিদফতরের কোনও অনুমোদন না নিয়েই বিভিন্ন ইন্টারনেট তাঁর ও প্লাসটিক দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে অবৈধ ডিজেল। এর বর্জ্যে বিনষ্ট হচ্ছে গাছ, ফসলি জমি। এতে পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের শিবপুর গ্রামে। দীর্ঘ প্রায় ৪ মাস যাবৎ আনোয়ার নামে এক ব্যক্তি কারখানাটি পরিচালনা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি বিএসটিআই ও পরিবেশ অধিদফতরের কোনও কাগজপত্র ছাড়াই বিভিন্ন ব্রান্ডের নামে বাজারজাত করার অভিযোগ আছে।
জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ ম্যানূয়াল পদ্ধতিতে তাদের তৈরি ডিজেল বোতল বা ড্রামে বাজারজাত করে থাকে। ডিজেল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার মতো কোন ল্যাবও তাদের নেই। বিশেষ করে নাম না প্রকাশে এক দোকানদার জানান, ডিজেলটা একটু লাল থাকে এবং বাজারের চেয়ে ২০/৩০ টাকা করে কমে পাওয়া যায়। তাই আমরা অনেক সময় বিক্রি করে থাকি। মোর্শেদুল আলম বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করে এলাকায় দীর্ঘ প্রায় ৪ মাস ধরে অবৈধভাবে বিভিন্ন ইন্টারনেট তাঁর এবং রাবার পুঁড়িয়ে ডিজেল তৈরি করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু হানিফা বলেন, এই কারখানার কারণে আশপাশের গাছপালাসহ ফসলি জমি বিনষ্ট হচ্ছে বর্জ্য পদার্থের কারনে। তাই আমরা চাই কর্তৃপক্ষ যেন এর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
কারখানার মালিক আনোয়ার মুঠোফোনে বলেন, আমি অবৈধভাবে কোন কারখানা পরিচালনা করি না। অনুমোদন নিয়েই আমি কারখানা পরিচালনা করছি।
২নং ওয়ার্ড মেম্বার মজনু মিয়া বলেন, বিষয়টা আমি জানতাম না। একদিন এলাকার কিছু লোকজন এসে কারখানার বর্জ্যরে পঁচা ও ধোঁয়ার গন্ধে তাদের বসবাস করতে সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন। পরে আমি সেখানে গিয়ে গেট বন্ধ পাই। পরে খোঁজ নিয়ে দেখি তারা ডিজেল জাতীয় অবৈধ তেল তৈরি করছে। আমি চাই দ্রুত এই কারখানাটি বন্ধ হোক।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক জহিরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, আমি এই কারখানাটির সম্পর্কে অবগত নই। আমি আপনাদের মাধ্যমে এখন জানতে পাড়লাম। অবশ্যই আমি খোঁজখবর নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।