হাবিবুর রহমান, মধুপুর ॥
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে পানি নেমে আসায় টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার হাওদা বিলের ভাটিতে পাকা বোরো ধান তলিয়ে নষ্ট হচ্ছে। এ অঞ্চলের সর্ব বৃহৎ বিলটির ধানেই স্থানীয় কৃষকদের খাদ্যের যোগান আসে। স্বপ্ন দেখে এক বছরের খোরাক হবে বিলের ধানেই। বিলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত খালটি প্রভাবশালীরা দখল আর ভরাট করে আবাদি জমি বানানোর ফলে পানি নিষ্কাশন বাঁধার সৃষ্টি হয়। ফলে জলাবদ্ধতা দেখা দেয় চরমভাবে। বনাঞ্চলের পানি নেমে তলিয়ে যায় কৃষকের পাকা ধান। অনেক কষ্ট করে ধার দেনায় আবাদ করা ধান তলিয়ে নষ্ট হলে ব্যাপক ক্ষতিতে পড়েছে এ অঞ্চলের কৃষকরা। নালা উদ্ধার করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি স্থানীয়দের। খনন হলে ক্ষতির মুখ থেকে রক্ষা কয়েক হাজার বিঘা বাইদ বিল নালার কৃষকের বোরো ধানের আবাদ। এমনটাই দাবি কৃষকদের।
মধুপুর শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে অরণখোলা ও কুড়াগাছা ইউনিয়নের পিরোজপুর, কাকরাইদ, আকালিয়াবাড়ি, জলছত্র, গাছাবাড়ি গ্রামে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হাওদা বিলটি তাদের এলাকার জন্য ধানের জন্য শস্য ভান্ডার। বিলটি তাদের একটি মাত্র ফসল ধান চাষ হয়ে থাকে। উজানের দিকে ও দুই পাড়ে আমান চাষ হয়ে থাকে।
হাওদা বিলের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত একটি নালা রয়েছে। নালার উজানে ক্ষীরু নদী আর ভাটিতে গোঁজা খাল বংশাই নদীতে মিলিতে হয়েছে। গাছাবাড়ি ও চাপাইদের মধ্যবর্তী মালিবাজার থেকে আকালিয়া বাড়ি পর্যন্ত মাঝখানের বিলের নালাটা প্রভাবশালীরা যার যার মতো দখল ও ভরাট করে আবাদি জমি বানিয়ে নিয়েছে। তাদের ভয়াল থাবায় নালাটি তার অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। এখন সরু ড্রেনের মতো টিকে আছে। সরু নালাটি বৃষ্টির সময় উজানের কয়েক ইউনিয়ন ও বনাঞ্চলের নেমে আসা ঢলে পুরো বিলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে যায়। ফলে কখনো কাঁচা ধান, কখনো পাকা ধান প্লাবিত হয়ে নষ্ট হয়ে থাকে। পানি থেকে ধান কেটে ঘরে তুলতে খরচ বেড়ে যায় কয়েকগুণ। অনেক সময় বেশি পানি হলে অনেক কৃষক তাদের ঘরে ধান তুলতে পারে না। তখন দেখা দেয় দুশ্চিন্তা। ধার দেনা ঋণ করে আবাদ করা বোরো ফসল মার খেয়ে যায়। এমনটাই জানালেন স্থানীয় কৃষক, চাষী ও জনগন।
মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকারসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা হাওদা বিল পরিদর্শন করেন। কৃষকদের সাথে কথা বলেন। কৃষকরা তার কাছে খাল খননের দাবি করেছেন। এবারও কয়েক দিনের বৃষ্টির পানি ডুবে গেছে হাওদা বিলের পাকা ধান। তাই দ্রুত নালাটি খনন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
পিরোজপুর গ্রামের কৃষক দুদু মিয়া (৪৫) বলেন, হাওদা বিলে তার আড়াই বিঘাতে ধান চাষ করেছে। এ বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে। ১৪ হাজার টাকা চুক্তিতে ধান কেটে পাড়ে তুলতে। তারমতে, যে খরচ হচ্ছে, দাম সে অনুপাতে নেই। তবে লোকসান গুনতে হবে তার এমনটাই জানালেন। কৃষক আকবর হোসেন (৫০) বলেন, তাদের গ্রামে বিলপাড়ের প্রায় কৃষকের ধান তলিয়ে গেছে। অনেক ক্ষতির আশংকা করছে। শ্রমিকের মজুরি হাজার ১২শ’ টাকা। চুক্তিতে বিঘা কাটানো হচ্ছে ৬-৭ হাজার টাকায়। বৃষ্টিতে ধান কেটেও শুকানোর জায়গা নেই। পানি থেকে তোলাও কঠিন।
অরণখোলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেন, হাওদা বিলটি ঐতিহ্যবাহী একটি বিল। ধান ও মাছের জন্য অন্যতম। তবে বিলের নালা ১৪ হাত, প্রভাবশালীরা নালাটি ভরাট করে চাপিয়ে তারা আবাদ করে যাচ্ছে। যে কারণে বৃষ্টিতে পানি নিষ্কাশন হতে না পেরে তলিয়ে যায়। খাল উদ্ধার করে খনন করার বিষয়ে স্থানীয় এমপি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর সাথে কথা বলবেন বলে জানান।
এ ব্যাপারে মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রকিব আল রানা বলেন, বৃষ্টিতে হাওদা বিলের নিচু ভাটি অংশে জলাবদ্ধতায় ধান তলিয়ে গেছে। তবে কৃষকরা ভেলা ও নৌকায় করে কেটে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নালাটি খনন হলে পানি নিষ্কাশন হলে এ সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে।
এ বিষয়ে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন বলেন, হাওদা বিলের নালাসহ মধুপুরের ২২টি খাল খননের তালিকা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই খনন কাজ শুরু করা হবে।