
স্টাফ রিপোর্টার, দেলদুয়ার ॥
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যুবককে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের গজিয়াবাড়ি গ্রামে ঘটেছে ঘটনাটি। ওই গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে জসিম উদ্দিনকে (২৮) তার প্রতিবেশি বন্ধু বারেক গত শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে মুঠোফোনের মাধ্যমে ডেকে নেয়। এরপর থেকেই জসিম উদ্দিনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া য়ায়। সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যায় জসিম উদ্দিনের লাশ তার নিজ বাড়ী থেকে ১ কিলোমিটার দূরে হিংগানগর বড় বাড়ির দিঘীর পাড়ে ডোবায় দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী পরিবারের কাছে খবর দেয়। পরে সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। লাশের পেটে ছুরিকাঘাতের গভীর ক্ষত আছে।
নিহত জসিমের পিতা আমজাদ হোসেন জানান, আমার ছেলের সঙ্গে বারেক নামক যুবকের ৩০ হাজার টাকার লেনদেনের বিষয় ছিল। শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যা ৭টায় বারেক আমার ছেলেকে ফোন করে ডেকে নেয়। তারপর থেকে আর আমার ছেলে বাড়ি ফিরে আসেনি। সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যায় লোক মারফত জানতে পারি হিংগানগর বড় বাড়ির কাছে দিঘীর পাড়ের ডোবায় একটি লাশ ভাসছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। তখন জানতে পারি লাশটি আমার ছেলের। এ ব্যাপারে মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে বারেককে প্রধান আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছি।
নিহত জসিম উদ্দিনের স্ত্রী আরজিনা বেগম জানান, শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বারেক আমার স্বামীকে একাধিকবার ফোন করেছে। বারেকের ফোন পেয়ে যখন স্বামী বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। তখন তাকে যেতে বাঁধা দিয়ে বলেছিলাম যেয়ো না তোমার পেছনে শত্রু লেগেছে। কিন্তু সে আমার বাঁধা না মেনে দ্রুত বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরপর সাড়ে ৭টা পর্যন্ত তার সাথে আমার মোবাইলে যোগাযোগ হয়েছে। সে সময় একাধিক লোকের কন্ঠ আমি শুনতে পেয়েছি।
এ বিষয়ে দেলদুয়ার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজাহারুল ইসলাম জানায়, নিহতের নামে থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন করতে মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে। অধিক তদন্তের স্বার্থে এর চেয়ে বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না।






