মধুপুর প্রতিনিধি ॥
টাঙ্গাইলের মধুপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে শিল্প ও বণিক সমিতির ভবন নির্মাণে বাঁধা, সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে হুমকির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে এ অঞ্চলের সর্ব বৃহৎ ব্যবসায়ী সংগঠন শিল্প ও বণিক সমিতি। ব্যবসায়ীদের স্বার্থ নিরাপদের বাণিজ্য করার লক্ষ্যে গড়ে তোলা হয় মধুপুর শিল্প ও বণিক সমিতি। সমিতির নিজস্ব অর্থায়নে কেনা জমিতে তাদের সংগঠনের ভবন নির্মাণে বাঁধা প্রদান করার অভিযোগ উঠেছে। সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ। শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে মধুপুর শিল্প ও বণিক সমিতি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মিনজুর রহমান নান্নু। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বিগত ১৯৮৪ সালে এ সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে তাদের সদস্য সদস্য সংখ্যা প্রায় তিন হাজারের মতো। রেজিষ্ট্রেশন করা এ সংগঠনের ভবন নির্মাণের জন্য মধুপুর পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে জমি ক্রয় করা হয়। মধুপুর মৌজার হালদাগ ৭২৭ খতিয়ানের ৩৫৫৬ দাগের ৮ শতাংশ জমি । যা সমিতির নামে বৈধভাবে ক্রয় করা হয়েছে। জমিটি নামজারি সম্পন্ন হওয়ার পর সেখানে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করলে মধুপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মরহুম সরকার সহিদের ছেলে আদিত্য সরকার ও স্ত্রী লিলি সরকার তাদের লোকজন নিয়ে বাধা প্রদান করে বলে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও জানান, রাতের আঁধারে সমিতির সীমানা ভেঙে প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। এছাড়া গত (১৪ মে) সন্ধ্যায় অভিযুক্তরা তাদের লোকজন নিয়ে সমিতির কার্যালয়ে প্রবেশ করে নেতৃবৃন্দকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি প্রদান করেন। এ সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মিনজুর রহমান নান্নুকে বিভিন্ন হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়। এ বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন সংগঠনের নেতারা।
এ ব্যাপারে আদিত্য সরকার সাংবাদিকদের বলেন, মধুপুর শিল্প ও বণিক সমিতি জমি কিনেছে এটা সত্য। কিন্তু জমির সম্মুখভাগের রাস্তা তাদেরকে কিনে ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। তারা তাতে রাজি না থাকায় এই সমস্যা দেখা দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মধুপুর শিল্প ও বণিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি জহুরুল ইসলাম মাধু, মধুপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রাজনীতিক আনোয়ার হোসেন, ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদ, সহ সাধারণ সম্পাদক হুরমুজ আলী ফকির, সহ-সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার সাহা, কোষাধ্যক্ষ আশিকুজ্জামান জুয়েল, দপ্তর সম্পাদক হাসান আলী, প্রচার সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোশারফ হোসেনসহ কার্যকরী পরিষদের সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।