
আদালত সংবাদদাতা ॥
আদালতে রিট করার পর আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের স্বপদে পুণর্বহালের আদেশ দিয়েছেন আদালত। ওই সব ইউনিয়ন পরিষদে ইতোপূর্বে প্রশাসক নিয়োগ বাতিল করে চেয়ারম্যানদের পুণরায় স্বপদে বহালের এই আদেশ দেওয়া হয়। পুণর্বহালের আদেশ পাওয়া ইউপি চেয়ারম্যানদের সবাই উপজেলা আওয়ামী লীগের পদ-পদবীধারী নেতা এবং সদস্য। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক মাহফুজুল আলম মাসুমের স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে পুণর্বহালের এ তথ্য জানানো হয়।
ঘাটাইল উপজেলার একাধিক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা নিজ নিজ দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন। চেয়ারম্যান পুনর্বহাল হওয়া ইউনিয়নগুলো হলো- দেউলাবাড়ি, ঘাটাইল সদর, জামুরিয়া, লোকেরপাড়া, আনেহলা, দিগড়, দেওপাড়া, সন্ধানপুর, রসুলপুর, ধলাপাড়া, সংগ্রামপুর, লক্ষিন্দর এবং সাগরদিঘী। এছাড়া দিঘলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম মটু সেই সময়ে কারাগারে থাকায় তিনি রিটে অংশ নিতে পারেননি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জামুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম হেসটিংস, দেউলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুজাত আলি খান ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি। আনেহলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তালুকদার মোহাম্মদ শাহজাহান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। দিগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন ফনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। ধলাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল আলম শফি, ঘাটাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান হিরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা ও সাগরদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুল্লাহ বাহারকে ছাত্র-জনতার অন্দোলনের সময় মারধরের ঘটনায় বিগত ২০২৪ সালের (১৩ ডিসেম্বর) আটক হন। পরবর্তীতে জামিনে বের হয়ে তিনি বর্তমানে নিজ এলাকাতেই অবস্থান করছেন।
এছাড়া সংগ্রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বাবু, লক্ষ্মীন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান, রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ, সন্ধানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন, দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন হেপলু, লোকের পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল হক মিলন টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার অনুসারি।
জানা যায়, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট রিটের আদেশ এবং বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে পূর্বে জারি করা প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়। বিগত ২০২৪ সালের (২৭ নভেম্বর) জারি করা স্মারকের মাধ্যমে ঘাটাইল উপজেলার ১৩ ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরে আদালতের আদেশের আলোকে সে প্রজ্ঞাপন বাতিল করে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানদের স্বপদে পুণর্বহাল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সাগরদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুল্লাহ বাহার বলেন, হাইকোর্টে রিটের প্রেক্ষিতে আজকে পরিপত্র জারি হওয়ায় পুনরায় বহাল হলাম। আমরা উপজেলার সকল ইউপি চেয়ারম্যান আইনের প্রতি সম্মান জানিয়ে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করব।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক মাহফুজুল আলম মাসুম বলেন, আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বিভাগীয় কমিশনার তদন্ত করে সঠিক তথ্য পাওয়ায় চেয়ারম্যানদের স্বপদে পুণর্বহাল করার জন্য নির্দেশ দেন। যার ফলে চিঠিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।






