স্টাফ রিপোর্টার ॥
পবিত্র ঈদুল আযহার আর মাত্র ছয় দিন বাকি। এর মধ্যেই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে নিত্যপণ্যের বাজারে। ক্রেতাদের বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে ঈদের পূর্বমুহুর্তে বেড়েছে সবকিছুর দাম। এতে নাভিশ্বাস উঠছে স্বল্প ও মধ্য আয়ের মানুষদের। শুক্রবার (২২ মে) সকালে টাঙ্গাইল পৌর শহরের পার্ক বাজার, ছয় আনি বাজার, সিটি বাজার, আমিন বাজার, সন্তোষ বাজার ঘুরে এমন তথ্য জানিয়েছেন ক্রেতারা। ক্রেতাদের দাবি, ঈদের আগে ভোক্তার পকেট কাটতে নতুন করে সিন্ডিকেট করছেন ব্যবসায়ীরা। এতে নতুন করে বাড়ছে পণ্যের দাম। অপরদিকে বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের কারণে বাজারে কিছুটা সরবরাহ ঘাটতি থাকায় দাম বাড়ছে। ঈদের পর দাম আবারও কমে আসবে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৭৮০ টাকা। সবধরনের মুরগিরতেও স্বস্তি নেই ক্রেতাদের। তবুও ভিড় দেখা গেছে মুরগির দোকানগুলোতে। ক্রেতাদের অসন্তোষ সত্ত্বেও বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের আগে আরো বাড়তে পারে দাম।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাজারে সব ধরনের মাংসের দামই বাড়তি যাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে গরুর মাংস ৮০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে দাম বেড়ে ৮৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি শুরু হয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে খাসির মাংসও প্রতি কেজি ১২০০ টাকা থেকে ১২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে ঈদকে ঘিরে বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দামও। এটি এখন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা দরে। যা কিছুদিন আগেও ১৯০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে ছিল। এছাড়া সোনালী মুরগির দামও বেড়ে প্রতি কেজি এখন ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে কক মুরগি প্রতি কেজি ৩৬০ টাকা, লেয়ার মুরগি প্রতি কেজি ৩০০ টাকা এবং দেশি মুরগি প্রতি কেজি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জানা গেছে, গত মাসের শেষ দিকে হঠাৎ করে বাজারে ব্যবসায়ী ও খামারিরা দামে ছাড় দিয়ে মাংস বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। তখন গরুর মাংসের দাম নির্ধারণ করা হয় প্রতি কেজি ৬৫০ টাকা। তবে সে দামে কিছুদিন বিক্রি হলেও এরপর বাজারে গরুর মাংসের দাম আবার বাড়তে থাকে। গরুর মাংসের দাম ওঠে প্রতি কেজি ৮০০ টাকা। এরপর কিছুদিন আবারও ৭৫০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে আবার ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতারা বলছেন, কয়েকদিন আগে থেকেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এখন সেটা অসহনীয় পর্যায়ে আছে। বাজারে লেগেছে ঈদের হাওয়া। যে যার খুশিমতো দাম বাড়াচ্ছে। বাজারে যাই ধরা হয়, সেটারই দাম বেশি। সবকিছুর দাম বেশি। চার-পাঁচদিন আগেও মুরগি ছিল কেজি ২০০ টাকা, কিন্তু এখন দাম বেড়ে ২৪০ টাকা।
বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের আগে সবজি কম আসছে। এতে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দেয়ায় দাম বাড়ছে। বাজারের সবজি বিক্রেতা ফরিদ জানান, বাজারে শাক-সবজির যোগান কমে গেছে। তাই দাম কিছুটা বাড়তি।
সবজি বিক্রেতা উজ্জ্বল বলেন, বাজারে সবজির সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অনেক কম। এতে কেজিতে দাম বেড়েছে ৫-১০ টাকা। মূলত ঈদের আগমুহূর্ত হওয়ায় সবজি কম আসছে। তবে ঈদের পরে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম কমে আসবে।
মহসিন নামে এক ক্রেতা বলেন, সরকার দাম বেঁধে দিলেও তার প্রভাব বাজারে নেই। ব্যবসায়ীরা এখন মন্ত্রী-আমলাদের কথার তোয়াক্কা করে না। ফলে তারা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন খেয়াল-খুশিমতো। বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি বেগুন ৪০-৭০ টাকা, শিম ৩০-৩৫, চিচিঙ্গা ৪০ টাকা, করলা ৫০-৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৫০-৬০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, শসা ৪০-৫০ টাকা ও লতি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি পেঁপে ৩৫-৪০ টাকা, ঝিঙে ১০০ টাকা, সজনে ডাটা ২০০ টাকা, কহি ৪০ টাকা, খিরাই ৩০-৪০ টাকা, গাজর ২৫-৩০ টাকা, টমেটো ৩৫-৪০ টাকা ও পটোল বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়। আর প্রতি পিস লাউ ৪০-৫০ টাকা ও প্রতি হালি লেবু ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম বেড়ে গেছে আলুরও; বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকা কেজিতে।
বাজারে দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচেরও। পাইকারিতে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকায় ও খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকায়। এছাড়া বাজারে লালশাকের আঁটি ১৫ টাকা, পাটশাক ১৫-২০ টাকা, পুঁইশাক ২৫ টাকা, কলমিশাক ১৫ টাকা ও পালংশাক ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অস্থির পেঁয়াজ-রসুনের বাজারও। সপ্তাহ ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়ে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। আর কেজিতে ১০-২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে প্রতিকেজি দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়। এছাড়া আমদানি করা রসুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০-২৪০ টাকায়। আদা আগের বাড়তি দামেই ২০০ থেকে ২২০ টাকায় কেজি বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে অ্যাংকর ডাল ৮৫-৯০ টাকা, ডাবলির ডাল ৮৫ টাকা, মোটা দানার মসুর ডাল ১০৫ টাকা, চিকন মসুর ডাল ১৩৫-১৪০ টাকা, মোটা দানার মুগ ডাল ১৪৫-১৫০ টাকা, চিকন মুগ ডাল ১৭০-১৮০ টাকা ও খেসারি ডাল ১১০-১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য পণ্যের মধ্যে বেসন ১৪০-১৬০ টাকা, খোলা আটা ৫০-৫৫ টাকা, প্যাকেট আটা ৫৮-৬০ টাকা, খোলা ময়দা ৬৫-৭০ টাকা এবং প্যাকেট ময়দা ৭০-৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৪৫-১৫০ টাকায়, আর প্যাকেটজাত চিনি তো বাজার থেকেই উধাও!