স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে পাঁচ বছরের শিশু কন্যা ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষকের নাম মিন্টু মিয়া। সে দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের ডুবাইল বাসস্টান্ড এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে। এ ঘটনায় শিশুর পিতা বাদি হয়ে শুক্রবার (২২ মে) রাতে দেলদুয়ার থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
শিশুর পিতা জানান, তাদের বাড়ি পাবনা জেলায়। দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের ডুবাইলে অবস্থিত নাসির গ্লাস ইন্ডাষ্ট্রিতে ট্রাক চালক পদে চাকুরী করেন। এ কারণে ডুবাইল বাসস্ট্রান্ডের ওভার ব্রীজ সংলগ্ন একটি বাসায় ভাড়া থাকেন। বাসার পাশেই মিন্টু মিয়ার মনোহারী দোকান। গত মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে শিশুটি দোকান থেকে চকলেট আনতে যায়। এ সময় মিন্টু প্রলোভন দেখিয়ে তাকে দোকানের ভেতর নিয়ে যায়। তাকে অনেক চকলেট ও বিস্কুট দেওয়ার প্রলোভন দেখায়।
চকলেট নিয়ে সে দোকান থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে তার মুখ চেপে ধরে তার উপর পাশবিক যৌন নির্যাতন চালায়। বাসায় ফিরতে দেরি হওয়ায় তার মা খুঁজতে দোকানে আসেন। এসে দেখেন শিশুটি বিবস্ত্র অবস্থায় রয়েছে এবং কান্নাকাটি করছে। মিন্টুকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যায়। এ সময় গ্রামের অনেক মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। এ সময় তারা মিন্টুর বিচার দাবি করেন।
শিশুর মা জানান, তার স্বামী ঘটনার দিন ট্রাক নিয়ে খুলনায় ছিলেন। এসব ঘটনা জেনে সে দ্রুত খুলনা থেকে চলে আসেন। বাসায় এসে মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং দেলদুয়ার থানায় মামলা দায়ের করেন।
এদিকে এলাকার যোবায়ের নামের এক ব্যাক্তি মেয়ের বাবাকে ফোন করে মামলা না করার জন্য হুমকি দেন। তিনি আরও জানান, তাদের বাড়ি পাবনায়। স্বামীর চাকুরীর সুবাধে এখানে ভাড়া থাকেন। এখানে তাদের কোন আত্বীয়-স্বজন নেই। তাদের খোঁজখবর নেওয়ার মতো কেউ নেই। এমন হুমকির পর থেকে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী পরিবার জানায়।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ সাদিকুর রহমান বলেন, ঘটনার দুইদিন পর গত শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দায়িত্বরত চিকিৎসক শিশুর শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন। এদিকে তার সোয়াব পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট আসলেই ধর্ষণের বিষয়টি জানা যাবে।
এ বিষয়ে দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ ঘটনায় মেয়ের বাবা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। যৌন নির্যতানের শিকার ওই শিশুর ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। শিশুর জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়েছে। আসামীকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে। আশা করছি আসামীকে দ্রুতই গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি করা হবে।