স্টাফ রিপোর্টার ॥
ঈদ উদযাপনে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষদের দফায় দফায় বৃষ্টিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনাসেতু মহাসড়কে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক ও পিকআপে যাচ্ছেন যারা তাদের ভোগান্তি বেশি হচ্ছে। শত কষ্ট হলেও ঈদের আনন্দ পরিবার ও আত্নীয়-স্বজনদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে ঘরমুখো হচ্ছেন তারা। ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ ও চিরচেনা যানজটে নাকাল হতে হচ্ছে ঘরে ফেরা মানুষের। ঈদযাত্রাকে ঘিরে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। মহাসড়কে বাসসহ গণপরিবহন সংকট দেখা দেওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ বেশি ভাড়ায় বাসের ছাদে বা খোলা ট্রাকে চড়ে বাড়ি যাচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৮ মে) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করা হবে।
বুধবার (২৭ মে) টাঙ্গাইল মহাসড়কের নগরজলফৈ, রাবনা, এলেঙ্গাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা গেছে। কেউ অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বাসে, আবার অনেকে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাস না পেয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়ে ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক বা পিকআপে গন্তব্যে যাচ্ছে।
বগুড়াগামী এনামুল হক বলেন, আমি টাঙ্গাইল শহরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। ৩০০ টাকার ভাড়া আজকে চাচ্ছে ৯০০ টাকা। তাই বাধ্য হয়ে ৪০০ টাকা দিয়ে ট্রাকে যাচ্ছি। সিরাজগঞ্জের টুটুল মিয়া বলেন, স্বাভাবিক বাস ভাড়া ১০০ টাকা। আজকে বাস না পেয়ে ২০০ টাকা দিয়ে পিকআপে যাচ্ছি। নাটোরের সাইফুল ইসলাম বলেন, দেড় ঘণ্টা বাস না পেয়ে এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হচ্ছে। ঢাকায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও টাঙ্গাইলে কোনো পদক্ষেপ নেই।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ঈদযাত্রায় যমুনা সেতুর দুই পাশ দিয়ে ৯টি করে মোট ১৮ বুথ দিয়ে টোল আদায় করা হচ্ছে। এর মধ্যে দুটি করে বুথ দিয়ে মোটরসাইকেল পারাপার হচ্ছে। সার্বিক্ষণিক টোল আদায় চালু রাখা হচ্ছে। ঈদের আগের দিন স্বাভাবিক কারণেই যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মহাসড়ক পরিদর্শন করেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শরীফা হক। এ সময় তিনি জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং কোথাও যানজট সৃষ্টি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি যানবাহনের গতি স্বাভাবিক রাখতে সার্বক্ষণিক তদারকি অব্যাহত রয়েছে।