
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইল জেলায় তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। সকাল থেকেই প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরমে অস্বস্তি বাড়ছে। দুপুরের দিকে রাস্তাঘাট, অফিস পাড়া, বাজার ও গণপরিবহণে দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। শ্রমজীবী মানুষের অবস্থা আরও খারাপ। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা বুধবার (৩ জুন) ছিল ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
জানা যায়, তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রিতে উঠলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ ধরা হয়। ৩৮-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে বলা হয় মাঝারি। আর ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। এরপর ৪২ ডিগ্রির ওপরে উঠলে তাকে বলা হয় অতি তীব্র তাপপ্রবাহ।
সরেজমিন দেখা গেছে, এই গরমে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ খুব একটা ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। যারা কর্মসূত্রে বের হয়েছেন, তাদের অনেকেই ছাতা, পানির বোতল ও মাথায় কাপড় ব্যবহার করছেন। অনেক রিকশাচালক একটু সময় পেলেই রাস্তার পাশে গাছ বা বড় ভবনের ছায়ায় কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন। কেউ কেউ মাথায় পানি ঢেলে আবার রাস্তায় নামছেন। ফুটপাতের হকার বা বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন। অতিরিক্ত গরমে তাদের শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি ব্যবসায়ও দেখা দিয়েছে মন্দাভাব। বেড়েছে শরবতের চাহিদা। দামের কারণে নিম্নবিত্তদের নাগালের বাইরে গেলেও সামর্থ্যবানদের কাছে বেড়েছে ডাবের চাহিদা।
রিকশা চালক আব্দুল মজিদ বলেন, গরম বেশি। গা পুড়ে যায়। কিন্তু বসে থাকলে সংসার চলবে না। যত কষ্টই হোক, রাস্তায় নামতেই হয়। মোটরসাইকেল চালক নূর আলম জানান, একদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে তীব্র গরমের মধ্যে তেল নিতে হয়। এ মাসের শুরু থেকেই বইছে তাপপ্রবাহ। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তাপমাত্রা বাড়ছে।
চলতি মাসের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ মাসে একাধিক তীব্র তাপপ্রবাহ হতে পারে। দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ সহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।





