ঘাটাইল প্রতিনিধি॥
আসন্ন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতির মাঠ এখন বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে। এবারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে যার নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে তিনি হলেন উপজেলা বিএনপির একনিষ্ঠ ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় নেতা হাজী বিল্লাল হোসেন। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও বঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে তিনি নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন এবং তৃণমূলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ সবার কাছেই তিনি এখন এক পরম নির্ভরযোগ্য ও আস্থার ঠিকানা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। হাজী বিল্লাল হোসেনের রাজনৈতিক জীবন কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি দীর্ঘদিনের ত্যাগ, তিতিক্ষা ও লড়াইয়ের ফসল। কারণ ছাত্রজীবন থেকেই তিনি দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন এবং ঘাটাইল উপজেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে তিনি তৃণমূলের রাজনীতিতে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেন।
পরবর্তীতে ঘাটাইল পৌর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে ঘাটাইল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দল ও সাধারণ মানুষের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন তিনি। এছাড়াও বর্তমানে বিল্লাল হোসেন উপজেলা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এছাড়া তিনি ঘাটাইল এস ই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনীতি করতে গিয়ে বহু রোষানল, নিপীড়ন ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও তিনি কখনো তাঁর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি এবং দলের চরম দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের আগলে রাখা এই ত্যাগী নেতা আজ তৃণমূলের প্রতিটি কর্মীর হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন।
কেবল রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বিল্লাল হোসেনের আরেকটি বড় পরিচয় হলো তিনি একজন প্রকৃত সমাজসেবক ও জনদরদি মানুষ। যিনি এলাকার যেকোনো উন্নয়নমূলক কাজ কিংবা সামাজিক সংকটে সবসময় সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন। এলাকার সাধারণ মানুষ যখনই কোনো সমস্যায় পড়েছেন বিল্লাল হোসেনকে পেয়েছেন অভিভাবক হিসেবে। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো ও এলাকার সার্বিক উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়াই তাঁর জীবনের মূল ব্রত হওয়ায় তাঁর এই মানবিক গুণাবলী ও পরোপকারী মানসিকতার কারণে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তিনি এক জনবান্ধব নেতা হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। হাজী বিল্লাল হোসেনের এই মানবসেবার চেতনা মূলত এসেছে তাঁর পারিবারিক শিক্ষা ও গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য থেকে। কারণ তাঁর পিতা মরহুম ইসহাক উদ্দিন মিয়া ছিলেন ঘাটাইলের একজন প্রথিতযশা সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী এবং উপজেলা বিএনপির অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠাতা ও আজীবন অর্থ বিষয়ক সম্পাদক। যিনি জীবদ্দশায় ঘাটাইল সরকারি গণ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কেন্দ্রীয় গোরস্থান ও ঈদগাহ কমিটিসহ অসংখ্য সামাজিক, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে থেকে এলাকার উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছিলেন। পিতার সেই সমাজসেবার আদর্শিক উত্তরাধিকার বহন করছেন বিল্লাল হোসেন ও তাঁর ভাইয়েরা এবং তাঁদের পুরো পরিবারটিই এলাকায় সততা, শিক্ষা ও কর্মদক্ষতার এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত বা মডেল পরিবার হিসেবে সুপরিচিত।
যার একটি বড় প্রমাণ হলো তাঁর ছোট ভাই খলিলুর রহমান। যিনি ঘাটাইল জিবিজি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের দুই বারের সাবেক ভিপি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির পাঁচবারের সফল সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বর্তমানে ঘাটাইল গণ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে জ্ঞান বিলিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর আরেক ভাই আনোয়ার হোসেন ফারুক বাংলাদেশ রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার ও কর্মচারী কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাচিত সভাপতি এবং বর্তমানে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছেন। অন্য ভাই ফরিদ রহমান দেশের সার্বভৌমত্ব ও শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জেলা কমান্ড্যান্ট হিসেবে পঞ্চগড়ে কর্মরত আছেন। এবং সর্বকনিষ্ঠ ভাই ফরহাদ রহমান ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাবরক্ষক হিসেবে চিকিৎসাসেবার প্রশাসনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
পারিবারিক এই পরিচ্ছন্ন ইমেজ ও ভাইদের সততা বিল্লাল হোসেনের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাকে জনগণের কাছে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ঘাটাইল উপজেলার ভোটার ও সাধারণ জনগণের মতে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এলাকার সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হাজী বিল্লাল হোসেনের মতো একজন সৎ, যোগ্য ও পরীক্ষিত নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। স্থানীয়রা মনে করেন তিনি নির্বাচিত হলে ঘাটাইল উপজেলা পরিষদ একটি দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। বিশেষ করে এলাকার ভঙ্গুর অবকাঠামোর সুপরিকল্পিত উন্নয়ন, চিকিৎসাসেবার আধুনিকায়ন এবং তরুণ সমাজের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে তিনি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে সর্বস্তরের মানুষ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে যুবসমাজকে দূরে রেখে একটি সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
এদিকে দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনিক তৎপরতা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসক বা জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রক্রিয়ার মাঝে ঘাটাইল উপজেলা নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে উঠেছে। আসন্ন এই নির্বাচনে হাজী বিল্লাল হোসেনকে চেয়ারম্যান পদে দেখতে চেয়ে ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। রাজনীতিতে তাঁর অতুলনীয় ত্যাগ, ব্যক্তিগত সততা, সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা তাঁকে অন্য সব প্রার্থীদের চেয়ে অনেকখানি এগিয়ে রেখেছে এবং ঘাটাইল উপজেলার মানুষ এখন এক নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখছে যেখানে হাজী বিল্লাল হোসেনের হাত ধরে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ ও আধুনিক ঘাটাইল উপজেলা মায়াবী রূপ নিয়ে আত্মপ্রকাশ করবে। তাই ঘাটাইলের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই জনদরদি নেতাকে আসন্ন নির্বাচনে বিজয়ী করার দাবিটি এখন সাধারণ মানুষের মাঝে গণদাবিতে পরিণত হয়েছে।