স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সাবিনা আক্তার নামে এক প্রেমিকার ঘরে একান্তে সময় কাটাতে গিয়ে আপত্তিকর অবস্থায় শফি সিকদার নামে এক বিএনপি নেতাকে জনতা আটক করে গণধোলাই দিয়েছে। পরে দুজনের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়। সোমবার (৮ জুন) রাত ১২টার দিকে ওই নারীর বাড়ি ঘেরাও করে তাদের দুজনকে আটক করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের সোনালিয়া গ্রামে। শফি সিকদার একই ওয়ার্ডের কটামারা গ্রামের রহমান সিকদারের ছেলে। শফি বাঁশতৈল ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
এদিকে এই ঘটনা জানাজানি হলে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর মঙ্গলবার (৯ জুন) শফি সিকদারকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে উপজেলা বিএনপি। উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক হারুন অর রশিদ স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সোনালিয়া গ্রামের সামান মিয়ার মেয়ে সাবিনা আক্তারের বাঁশতৈল ইউনিয়নের কটামারা গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে সুজন মিয়ার সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস পর স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে তিন বছর আগে সৌদিআরব চলে যান। কয়েক মাস আগে তিনি দেশে ফেরেন। এরমধ্যে কটামারা গ্রামের দুই সন্তানের জনক বিএনপি নেতা শফির সঙ্গে সাবিনার পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শফিক প্রায় রাতেই সাবিনার বাড়ি আসে। বিষয়টি এলাকার লোকজনের নজরে আসে।
সোমবার (৮ জুন) রাতে স্থানীয়রা সাবিনার আশপাশে গোপনে পাহাড়ার ব্যবস্থা করেন। রাত ১১টার দিকে শফি ওই নারীর ঘরে ঢুকলে উৎ পেতে থাকা স্থানীয় লোকজন রাত ১২টার দিকে বাড়ি ঘেরাও করে তাদের আটক করেন। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ছাড়াও শতাধিক মানুষ ওই বাড়িতে ভীড় জমায়। এ সময় তাকে গণধোলাই দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়ির উপ পরিদর্শক আতাউর রহমান ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এছাড়া বাঁশতৈল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান, উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা আলাউদ্দিন আল আজাদসহ স্থানীয় লোকজন উপস্থিত হন। পরে শফিক ও সাবিনার সম্মতিতে ৫ লাখ টাকার কাবিনে বিয়ে সম্পন্ন করে এবং তাদের উদ্ধার করেন।
অপরদিকে এই খবর পেয়ে শফিকের আগের স্ত্রী ও সন্তানরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে বেদম মারপিট করেন। পরে শফিকে উদ্ধার করে একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়ির উপ পরিদর্শক আতাউর রহমান জানান, জনতার হাতে আটকের খবর শুনে শতশত নারী পুরুষ ঘটনাস্থলে যান। পরে রাজনৈতিক দলের নেতাদের উপস্থিতিতে মীমাংসার পক্রিয়া শুরু হলে তারা চলে আসেন বলে জানান।