স্টাফ রিপোর্টার ॥
বানের জল এখনো নদীতে ভরপুর আসেনি। ভাঙ্গনের যে রূপ দেখা যাচ্ছে সামান্য বৃষ্টির পানির ফল। বর্ষার পানির অপেক্ষায় নদী। দেখাবে তার আগ্রাসী রূপ। এখনই ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা না নিলে ভিটে মাটিসহ ফসলি জমি হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে ১৫ গ্রামের মানুষ।
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার হাতিয়া পশ্চিমপাড়া ও হাতিয়া মোল্লাপাড়া এলাকায় যমুনা নদীর শাখা ধলেশ্বরী নদীতে আবারও তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে নদী তীরবর্তী জনপদের মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে নদীর তীরের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ার পর ধীরে ধীরে ভাঙনের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে। বর্তমানে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, আবাদি ক্ষেত এবং নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। তাদের বছরের পর বছর ধরে চাষাবাদ করা জমি একের পর এক নদীর গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে।
ভাঙনের কারণে এলাকার কৃষি উৎপাদন ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদীর তীরবর্তী অনেক স্থানে বড় বড় অংশ ধসে পড়ায় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বসতভিটা, এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বহু পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে স্থানান্তরিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, প্রতি বছর ভাঙনের সময় সাময়িক কিছু তৎপরতা দেখা গেলেও নদী শাসন বা স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের মতো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয় না।
স্থানীয়রা জানায়, নদীভাঙনের ফলে ইতোমধ্যে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব ও আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে অন্তত অর্ধশত পরিবার। বছরের পর বছর ধরে চলা এ ভাঙনের বিরুদ্ধে আজও গড়ে ওঠেনি কোনো স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
প্রতিবছরের মতো এবারও বর্ষা মৌসুমে নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন কৃষকের জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে অন্তত ১৫টি গ্রামের হাজারো মানুষ।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দিন বলেন, নদীর তীর রক্ষা ও ভাঙন নিয়ন্ত্রণে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।