স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইল আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে মায়ের নামের বানান ‘ব্যাকরণ সম্মত’ নয় দাবি করে এক ব্যক্তির আবেদনপত্র ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী জুনাইদ হাসান গত (৩০ জুন) এই ঘটনায় সহকারী পরিচালক আবজাউল আলমের বিরুদ্ধে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তাদের তর্কাতর্কির একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, জুনাইদ ফাইল জমা দিতে গেলে আবজাউল আলম তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। তার দাবি, জুনাইদের মায়ের নাম বাংলায় ‘জহুরা’ হলেও ইংরেজিতে লেখা ‘Johora’। বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী হ্রস্ব-উকারের প্রতিবর্ণী হিসেবে ইংরেজিতে ‘U’ লিখতে হবে। বানান ঠিক না করলে তিনি ফাইল নেবেন না।
জুনাইদ জানান, তার জাতীয় পরিচয়পত্রসহ সব নথিপত্রে এই বানানই ব্যবহার করা হয়েছে। নিজের নামের বানান মানুষ নিজের পছন্দমতো লিখতে পারেন। কর্মকর্তা অনড় থাকায় জুনাইদ থানায় অভিযোগ করেন।
টাঙ্গাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ বলেন, আমি আজকেই যোগ দিয়েছি। বিষয়টি বিস্তারিত জেনে খতিয়ে দেখা হবে।
টাঙ্গাইল আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সহকারী পরিচালক আবজাউল আলমের দাবি, সামাজিক মাধ্যমের ভিডিওটি খণ্ডিত। আবেদনকারীর সঙ্গে তার কথা হয়নি। ভাবমূর্তি নষ্ট করতে তৃতীয় কোনো ব্যক্তি গোপনে এটি ভিডিও করেছেন। গ্রাহককে কাগজপত্র জমা দিতে বলা হলেও তিনি তা না করে থানায় অভিযোগ করেছেন। এই ঘটনার পর অন্য ভুক্তভোগীরাও মুখ খুলছেন। তাদের অভিযোগ, দালাল ছাড়া সরাসরি গেলে কর্মকর্তাদের হয়রানির শিকার হতে হয়।
আনিসুর রহমান নামে একজন জানান, সরাসরি যাওয়ায় তার কাগজপত্র তিন দিন ঘোরানো হয়। পরে দালালের মাধ্যমে ১ হাজার টাকা বাড়তি দিলে ওই কাগজপত্রই ঠিক হয়ে যায়। জেলা প্রশাসনের উচিত এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিক মনজুর বলেন, নামের বানানে বৈচিত্র্য থাকে। যে উচ্চারণে ডাকা হয়, বানান সব সময় তেমন নাও হতে পারে। বাংলা থেকে ইংরেজিতে প্রতিবর্ণীকরণের ক্ষেত্রে অনেক সময় মিল থাকে না। তিনি আরও বলেন, ব্যক্তি নামের ক্ষেত্রে এসএসসির সনদই স্বীকৃত, যদি না পরে হলফনামা করে পরিবর্তন করা হয়। ব্যক্তি নিজেই চূড়ান্ত করেন তার নামের বানান কেমন হবে। এখানে শুদ্ধ-অশুদ্ধের প্রশ্ন তুলে হয়রানি করা ঠিক নয়।